সংসদীয় কমিটির বৈঠক
সংসদীয় কমিটির বৈঠক। নয়া দিগন্ত

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা বাড়ানো, মাঠপর্যায়ে অভিযান জোরদার এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। 

কমিটির সভাপতি মো: আবদুস সালাম পিন্টু এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দফতর-সংস্থার কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন পদে বর্তমানে ৬ হাজার ৬৫৩টি শূন্য পদ রয়েছে। জনবল সঙ্কট নিরসনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ বন্ধ রেখে দ্রুত নিয়মিত নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করা হয়।

কৃষিজমি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে বৈঠকে জানানো হয়, অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। এ পরিস্থিতিতে কৃষিজমি রক্ষা এবং অকৃষি কাজে জমির অননুমোদিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

খাদ্যে ভেজাল রোধে বাড়ছে সক্ষমতা

বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো: আব্দুল বারী এমপি বলেন, খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে নজরদারি জোরদার এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের সীমাবদ্ধতা দূর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান, আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরো কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি অফিসে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজ চলছে।

বৈঠকে ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।

কমিটির সভাপতি বলেন, খাদ্য মানুষের মৌলিক অধিকার। জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেয়া সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব। খাদ্য সরবরাহ কর্মসূচিতে উপকারভোগী নির্বাচনে ত্রুটি এড়াতে ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি।

বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি, কমিটির সদস্য আবুল কালাম এমপি, মো: আবু তালেব মন্ডল এমপি, মো: আব্দুল করিম এমপি ও শামছুন্নাহার বেগম এমপি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধীন দফতর-সংস্থার প্রধান এবং সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।