
প্রান্তিক নারীর ক্ষমতায়ন, গর্ভবতী মায়ের মানসিক সুস্থতা, শিশুদের নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করা এবং নিম্নবিত্ত কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সুবিধা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সাথে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও বাজারসংযোগ জোরদার, শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগ, ডিএনএ ল্যাবরেটরির শূন্য পদ পূরণ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়।
কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর ও সংস্থার কার্যক্রম, বাজেট, জনবল, অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো: জাহিদ হোসেন এমপি, রাশেদা বেগম হীরা এমপি, আন্না মিনজ এমপি, মাধবী মার্মা এমপি, ফাহিমা নাসরিন এমপি, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা এমপি, সাবিকুন্নাহার এমপি এবং মোছা: নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি এমপি অংশ নেন।
বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, জাতীয় মহিলা সংস্থা, বাংলাদেশ শিশু অ্যাকাডেমি, জয়িতা ফাউন্ডেশন ও ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদফতরসহ বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। এসব সংস্থার ভিশন, মিশন, জনবল, বাজেট, উল্লেখযোগ্য অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয়।
আলোচনায় কমিটির সদস্যরা বলেন, মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও তৃণমূল পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চলমান কার্যক্রমের নিয়মিত পরিবীক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি সেবার সুফল যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের নারী ও শিশুরা পায়, সে জন্য মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের তদারকি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
প্রান্তিক নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে কমিটির সদস্যরা নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য বিক্রির জন্য কার্যকর বাজারসংযোগ গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। শুধু প্রশিক্ষণ নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা যাতে ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য বাজারজাত করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
গর্ভবতী মায়েদের মানসিক সুস্থতা ও পারিবারিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। মাতৃত্বকালীন সময়ে নারীর শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা এবং পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
শিশু সুরক্ষার বিষয়ে বৈঠকে শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষা, মানসিক বিকাশ এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা বাড়াতে পরিবারকে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন বলেও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া নিম্নবিত্ত কর্মজীবী মায়েদের কর্মপরিবেশ ও শিশুদের নিরাপদ পরিচর্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ডে-কেয়ার সুবিধা সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়। কর্মজীবী মায়েরা যাতে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারেন এবং তাদের সন্তানরা নিরাপদ পরিবেশে পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় যত্ন পায়, সে জন্য এ সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন কমিটির সদস্যরা।
ডিএনএ ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের কার্যক্রম গতিশীল করতে শূন্য পদ পূরণের সুপারিশও করা হয়। সংশ্লিষ্ট জনবলের ঘাটতি দূর করে সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন দফতর, অধিদফতর, সংস্থা, অ্যাকাডেমি ও ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








