
বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি মো: হুমায়ুন কবির বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ভারতের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন মেয়ে রয়েছে। কুমিল্লার এই কৃতী সন্তানের মৃত্যুতে একটি দীর্ঘ, মর্যাদাপূর্ণ ও কর্মময় জীবনের অবসান ঘটল।
যে বয়সে মানুষ স্বপ্ন দেখতে শেখে, সেই কৈশোরেই তিনি দেশের জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে দশম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। স্বাধীনতার পরপর পড়াশোনায় ফিরে যান এবং ১৯৭২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেন। গণিতে অসম্ভব ভালো ছিলেন বলে পরবর্তীকালে গণিতে এম.এসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজে গণিতে শিক্ষকতা করেন তবে পাশাপাশি প্রতিনিয়ত দেশের সেবায় কিভাবে নিজেকে নিয়োজিত করা যায় তা নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। অবশেষে ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন।
মরহুম মো: হুমায়ুন কবির ১৯৮৮ সালে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। তিনি রাঙ্গামাটি ও চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এবং ডিআইজি হিসেবে হাইওয়ে পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ও বরিশাল রেঞ্জে দায়িত্ব পালন করেন। রাঙ্গামাটি জেলার পুলিশ সুপার থাকাকালীন তিনি ৪০ একর জমিতে ‘সুখীনীলগঞ্জ’ নামে বন সৃজন করেন, যা জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় পুরস্কারে ভূষিত হয় এবং সেসময় তাকে স্বনামধন্য সংবাদপত্রে ‘বৃক্ষপ্রেমী পুলিশ কর্মকর্তা’ উপাধি দেয়া হয়।
হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবে তিনি সারাদেশে ৩১টি হাইওয়ে আউটপোস্টের জন্য বিনামূল্যে প্রায় ৩০ একর জমি সংগ্রহ করেন, যার আনুমানিক মূল্য ৩০০ কোটি টাকা। রাষ্ট্রের এই বিপুল সম্পদ সংরক্ষণে তার সততা ও দূরদর্শিতা ছিল দৃষ্টান্তমূলক।
২০১৬ সালে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে তিনি সসম্মানে অবসর গ্রহণ করেন। রণাঙ্গনের যোদ্ধা, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষক, আইনের রক্ষক: প্রতিটি ভূমিকায় তিনি রেখে গেছেন নিষ্ঠা ও সততার ছাপ। কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে সুনাম অর্জন করেছেন ।
মরহুমের জানাজা আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে এসআই শিরু মিয়া মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








