
বিশেষ সংবাদদাতা চট্টগ্রাম
সরকার গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি জোগানের পথে অগ্রসর হলেও পেট্রোবাংলা বলছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়ও এলএনজি কার্গো আসা অক্টোবরে শুরু হচ্ছে। সরকার স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির সময়সীমাও আগামী ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যদিও কয়েকগুণ বেশি দামে স্পট এলএনজি কিনতে বাড়তি এই বৈদেশিক মুদ্রার জোগান সরকার কতক্ষণ দিতে পারবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন খাত সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ। তা ছাড়া চীন, ভারত ও পাকিস্তান ইতোমধ্যে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয় সীমিত করে বিকল্প জ্বালানির পথে হাঁটছে বলেও বৈশ্বিক সূত্রগুলো বলছে। গবেষকরা বলছেন, এলএনজি টার্মিনাল বা এলএনজির জোগান স্বল্পমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় মোকাবেলায় ভূমিকা রাখতে পারে, দীর্ঘমেয়াদে নয়। তাই আমদানিনির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ায় মতো বিশেষজ্ঞদের। হরমুজের বাস্তবতাকে সামনে রেখে আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণের দিকে যেতে হবে, যেখানে নবায়নযোগ্য, জীবাশ্ম ও অন্যান্য উৎসের জ্বালানির সমন্বয় থাকতে হবে বলে জানান খাত সংশ্লিষ্টরা।
সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে ব্যয়বহুল স্পট মার্কেট
পেট্রোবাংলার চলতি বছরে পরিকল্পনায় মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো সংগ্রহের লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত সরবরাহকারী কাতার এনার্জি ৪০টি, ওকিউ ১৬টি, কাতার এনার্জি ট্রেডিং ১২টি, ওকিউ ট্রেডিং এলএলসি চারটি এবং এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং ১৪টি দেয়ার কথা; কিন্তু ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনে পাল্টে যায় সব হিসাব। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার দিনের মাথায় কাতার এনাজি ২ মার্চ ২০২৬ ফোর্স মেজার ঘোষণা করে এবং বাংলাদেশকে ২০২৬ সালে ৪০টি কার্গোর স্থলে ২০টি কার্গো দিতে পারবে বলে জানায়।
এর বাইরে ওমানের ওকিউ ট্রেডিং ২০২৬ সালে ১৬টি কার্গো দেয়ার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ৫ মার্চ ফোর্স মেজার ঘোষণা করলে কার্গো পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিং চলতি বছরে ১৪টি কার্গো দেয়ার কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানটি গত ৬ মার্চ ফোর্স মেজার ঘোষণা করে সরবরাহ বন্ধ করে। বাংলাদেশকে তারা জানিয়েছিল, রাস লাফান থেকে এলএনজি সরবরাহ পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা সরবরাহ করতে পারবে না।
সূত্রমতে, ইতঃপূর্বে স্পট মার্কেট থেকে গড়ে বছরে ৪০টি পর্যন্ত এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করা হলেও চলতি বছরে স্বাভাবিক সরবরাহ কমে যাওয়ায় পেট্রোবাংলাকে স্পট মার্কেট থেকেই অনেক বেশি দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম
এলএনজি জেকেএম’র (জাপান-কোরিয়া মার্কার) তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে বাড়তে বাড়তে গত মার্চের ১৭ তারিখে ২২ ডলার ৩৫ সেন্টে উঠেছিল প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম। এরপর আস্তে আস্তে তা কমতে থাকে এবং এপ্রিলের ১৭ তারিখ নাগাদ প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ)’র মূল্য দাঁড়ায় ১৫ ডলার। এরপর ধারাবাহিকভাবেই ওঠা-নামার মধ্যে থাকলেও আর ১৫ ডলারের নিচে নামেনি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতি এমএমবিডিটিইউ’র দাম ২৭ ডলার ৫১ সেন্টে পৌঁছে। সর্বশেষ গত ২২ সেপ্টেম্বর তা কিছুটা কমে ২৬ ডলার ০৫ সেন্টে স্থির হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য বলছে, গত এক বছরে স্পট মার্কেটে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম বেড়েছে ১২৯.৪১%।
বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি চাপ!
শিল্পসংশ্লিষ্ট নির্বাহীদের উদ্ধৃত করে রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, এ বছর এশিয়ায় ‘স্পট’ মার্কেটের দর প্রায় তিন গুণ বেড়ে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৩০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি শীত পড়লে ৪০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক তিন হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুইটি এফএসআরইউ থেকে প্রায় ৯৯০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি এবং দেশীয় গ্যাসত্রে থেকে প্রায় এক হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটসহ মোট প্রায় দুই হাজার ৬১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
চলতি মাসে সরকার স্পট মার্কেট থেকে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ২৯ ডলার দরে এলএনজি কার্গো অনুমোদন করেছে। সেই হিসাবে প্রতিদিন এলএনজি সরবরাহে তিন কোটি ডলারের বেশি ব্যয় হবে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেনÑ দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে স্পট মার্কেট থেকে কয়েকগুণ বেশি দামে এলএনজি কিনে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাটা একটি দুরূহ কাজ। ইতোমধ্যে চীন, ভারত ও পাকিস্তান স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে এলএনজি ক্রয় সীমিত করে জ্বালানির বিকল্প উৎস ব্যবহারের মাধ্যমে সমন্বয় করছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য বলছে।
নতুন স্পট সরবরাহকারীর খোঁজে পেট্রোবাংলা
এ দিকে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে নতুন সরবরাহকারীর খোঁজ করছে পেট্রোবাংলা। আগ্রহী সরবরাহকারীদের কাছ থেকে আগ্রহপত্র আহ্বান করেছে তালিকাভুক্তির জন্য। রোববার এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে পেট্রোবাংলা। সূত্রমতে, আগ্রহী সরবরাহকারীরা দুই দফা সময় বাড়িয়ে আগামী ৬ অক্টোবর দুপুর পর্যন্ত তালিকাভুক্তির আগ্রহপত্র জমা করতে পারবেন। সূত্র জানিয়েছে, ইতঃপূর্বে সময়মতো সরবরাহ দিতে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠানগুলোকে এড়িয়ে চলতেই নতুন সরবরাহকারী তালিকাভুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭টি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার তালিকাভুক্ত রয়েছে বলেও সূত্র জানায়।
উৎস ও রুট বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকছে বাংলাদেশও
ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি হামলার জেরে চলমান যুদ্ধপরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে এলএনজি সরবরাহ কার্যত বন্ধ থাকায় বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো এখন পশ্চিম আফ্রিকা থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার মতো বিভিন্ন উৎস থেকে বিকল্প সরবরাহের সন্ধানে নেমেছেন।
গেল সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘গ্যাসটেক’ সম্মেলনকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছেÑ অনেক সরকারই কেবল সরবরাহকারী নয়; বরং সরবরাহের রুট বৈচিত্র্যময় করার কথা ভাবছে। সরবরাহ উৎস ও রুট বৈচিত্র্যময় করার এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের একচ্ছত্র আধিপত্যের বাইরে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করে তুলতে পারে। ইরান-ইসরাইল সঙ্ঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ তার এলএনজি আমদানির বেশির ভাগের জন্য কাতারের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে বাংলাদেশ এখন ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও চীনের দিকে নজর দিচ্ছে বলে সম্মেলনে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটি জানায়।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেনÑ মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কটের কারনে দীর্ঘমেয়াদি নতুন এলএনজি সরবরাহ চুক্তি জরুরি। বাংলাদেশ বর্তমানে কাতার ও ওমানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে এলএনজি সরবরাহের জন্য অনেকটাই নির্ভরশীল। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নতুন উৎস এবং প্রাইসিং বেঞ্চমার্কে বৈচিত্র্য আনার কথা বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গানভর-এর সাথে বাংলাদেশ সরকারের এলএনজি সরবরাহ চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে সূত্র বলছেÑ গানভর-এর সাথে অনুমোদিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ২০২৬-২৮ সালের কিছু কার্গো জেকেএম-লিংক এবং পরবর্তী ২০২৯-৩৮ সময়ের কার্গো হেনরি হাব-লিংকড করার কাঠামো রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ইউএস এলএনজি শুধু নতুন সাপ্লাইয়ার হিসেবে নয়-নতুন প্রাইসিং বেঞ্চমার্ক হিসেবেও আমাদের সামনে আসছে। তবে সে ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সরু প্রণালীর ঝুঁকি না থাকলেও দীর্ঘ সমুদ্র পথের কারণে বাড়তি জাহাজ ভাড়ার ঝুঁকির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। আফ্রিকার দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে হবে বলে সূত্র জানায়।
সরকার ব্যয়বহুল এলএনজি সক্ষমতা বাড়ানোয় মনযোগী!
২০১৮ সাল থেকে গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে সরকার ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির দিকে মনযোগী হয়। অবশ্য অনেকেই বলে থাকেন ভূ-রাজনৈতিক কারণেও সরকারগুলো সে পথে হেঁটেছে। মহেশখালীতে ৫০০ ও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এই খাতে নতুন করে মহেশখালীর কুতুবজোমে আরো একটি ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে এক হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার ল্যান্ডবেইসড এলএনজি টার্মিনাল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। কিন্তু একই সাথে সঙ্কট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সরকারের মনযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা। পেট্রোবাংলার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সরকার বঙ্গোপসাগরে ভূ- কৌশলগত ভারসাম্য আনতে তৃতীয় এফএসআরইউটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে দেয়ার পথেই অগ্রসর হচ্ছে, যদিও বিদ্যমান দু’টি এফএসআরইউ’র চেয়ে সেটিতে বাড়তি ব্যয় গুনতে হবে বলে ইতোমধ্যে কথা উঠেছে। অবশ্য বাড়তি এই ব্যয়কে ভূ-কৌশলগত ভারসাম্যের মূল্য (!) হিসাবেও কোনো কোনো ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন।
পেট্রোবাংলার পরিচালক অপারেশনস প্রকৌশলী মো: শোয়েব নয়া দিগন্তকে বলেন, আগামী অক্টোবর পর্যন্ত এলএনজি কার্গোর পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলেছে। স্পট মার্কেট ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারীদের কার্গো মিলিয়ে অক্টোবরে ১০ কার্গো এলএনজি আসা চূড়ান্ত হয়েছে বলে তিনি জানান। মহেশখালীর কুতুবজোমে তৃতীয় এফএসআরইউ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি আমাদের আওতায় নেই, কাজেই এ বিষয়ে বলতে পারব না। এটি সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলেও তিনি জানান। সুত্রমতে এক কার্গো এলএনজি দিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ দেয়া হলে তিন দিন চলে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরÑ চুয়েট পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: মোস্তাফিজুল করিম নয়া দিগন্তকে বলেন, শুধু এলএনজি অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; আমদানিকারকদের ওপর কার্যকর নজরদারি এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট তৈরি না হয়। আমাদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ জ্বালানি মিশ্রণের দিকে যেতে হবে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জীবাশ্ম জ্বালানি ও অন্যান্য উৎসের সমন্বয় থাকবে। তিনি আমদানিনির্ভরতার পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যমান গ্যাসত্রেগুলোকে সুষ্ঠু কূপ ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা জরুরি বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জ্বালানি উৎসগুলোর একটি সমুদ্রাঞ্চলের সম্পদ, এখনো আমরা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারিনি।








