
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার তিন নম্বর চান্দলা ইউনিয়নের মানুষের সেবায় জীবনের বাকি সময়টুকু কাটাতে চান বিশিষ্ট সমাজসেবক মাওলানা মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ খান। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার সামাজিক কর্মকাণ্ড, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তার প্রতি জনগণের প্রত্যাশার কথা জানা যায়।
মাওলানা রহমতুল্লাহ খান এর আগে চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে তিনি উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, আগের নির্বাচনের তুলনায় বর্তমান সময়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই তাকে ঘিরে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের বক্তব্য, নির্বাচনের সময় ও পরিস্থিতি এখন ভিন্ন
চান্দলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাওলানা রহমতুল্লাহ খানের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার প্রতি অনেকের প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাওলানা রহমতুল্লাহ খান একজন ধার্মিক ও যোগ্য ব্যক্তি। তিনি আগেও চেয়ারম্যান পদে দোয়াত-কলম প্রতীকে নির্বাচন করেছেন এবং ভালো ভোট পেয়েছেন। তখনকার সময়ের নির্বাচন আর এখনকার নির্বাচন এক নয়। আমরা আশাবাদী ইনশাআল্লাহ।
তারা বলেন, জনপ্রতিনিধির কাছে তাদের প্রত্যাশা, তিনি যেন দল-দলমতনির্বিশেষে সব মানুষের কথা শোনেন, এলাকার সমস্যা চিহ্নিত করেন এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি ও দরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন
মাওলানা রহমতুল্লাহ খান দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি আরকে বিল্ডার্স এবং আলহেরা প্রি-ক্যাডেট স্কুলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া তিনি চান্দলা সিরাতুন্নবী সা: ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি, আরকে হজ্জ কাফেলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কুমিল্লা মক্কা হাসপাতাল পিএলসির নির্বাহী পরিচালক, তাহযীবুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন কুমিল্লার প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি এবং চান্দলা করিমপুর ইদগা কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দুর্নীতি, মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত ইউনিয়ন গড়ার প্রত্যয়
গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে এক সৌজন্য আলাপচারিতায় চান্দলা খান বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এই জনপদের সাধারণ মানুষের সাথে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকতে চাই। সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, অবহেলিত ও অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল লক্ষ্য।’
তিনি বলেন, ‘আমি পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সাথে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। চান্দলা ইউনিয়নকে দুর্নীতিমুক্ত, মাদকমুক্ত ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়তে আমি আত্মবিশ্বাসী।’
তার মতে, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা, সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
মাওলানা রহমতুল্লাহ খান বলেন, ‘আমি মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে চান্দলাবাসীর কল্যাণে কাজ করতে চাই। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত রাখাই আমার প্রত্যাশা। জীবনের বাকি সময়টুকু চান্দলাবাসীর সেবায় কাটাতে চাই।’
জনকল্যাণে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রত্যাশা
চান্দলা ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে যিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তিনি যেন মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশার মর্যাদা রক্ষা করেন। এলাকার রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখেন।
স্থানীয়দের মতে, একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ে তুলতে প্রয়োজন জনবান্ধব নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ। এসব প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন চান্দলাবাসী। বিজ্ঞপ্তি
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








