
বরিশালের উজিরপুরে যুবদল কর্মী কাওসার হাওলাদারকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর দুই আসামির বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের আলামদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়।
নিহত কাওসারের জানাজা শনিবার এশার নামাজের পর সম্পন্ন হয়। জানাজা শেষে ফেরার পথে আসামিদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবর পান সাতলা ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি।
ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি কাইয়ুম ভাট্টি বলেন, কাওসারের জানাজা শেষে ফেরার পথে জানতে পারেন, হত্যা মামলার দুই আসামির বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলামদী গ্রামের খালপাড় বড় সেতুসংলগ্ন এলাকায় মামলার এক নম্বর আসামি সজল মোল্লার বাড়ি রয়েছে। অন্য বাড়িটি তার বড় ভাই নান্না মোল্লার। সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হাওলাদার বলেন, বাড়িতে আগুন দেয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: রকিবুল ইসলাম আগুন দেয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন বলে জানান। একটি টিনের ঘরে আগুন দেয়া হয়েছিল। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘরটি পুড়ে যাওয়ার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আরো একটি ঘরে আগুন দেয়ার খবর পেয়েছেন তিনি।
ওসি বলেন, কাওসার হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসামিরা পলাতক রয়েছেন। সন্ধ্যার পর এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা আগুন দিয়েছে, তা এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে উজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত সাতলা ইউনিয়নের পশ্চিম সাতলা কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় কাওসার হাওলাদারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একটি মাইক্রোবাসে করে আসা একদল ব্যক্তি এ হামলা চালায়। এ ঘটনায় পুলিশ মাইক্রোবাসসহ নয়জনকে গ্রেফতার করেছে।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, দুই বছর আগে সাতলায় সংঘটিত জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিরোধের জের ধরে কাওসারকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








