‘সাব-রেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ নিয়েছি’

চট্টগ্রাম ব্যুরো
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেফতার চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দুই কর্মচারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। জবানবন্দীতে হেড কার্ক ফারুক ইসলাম বলেন, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি ঘুষের দুই লাখ টাকা নেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে তার কাছে পাঠানো হচ্ছিল। উমেদার রূপণ দাশ জবানবন্দীতে বলেন, তিনি প্রায় ১৫ বছর ধরে ওই কার্যালয়ে কর্মরত।
গত বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে দেয়া জবানবন্দীতে হেড কার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ এসব স্বীকারোক্তি দেন। 
২২ সেপ্টেম্বর এক আইনজীবীর অভিযোগের ভিত্তিতে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদক। এ সময় ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড কার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে গ্রেফতার করা হয়।
আদালত সূত্র জানায়, যে দলিল নিবন্ধনের ঘটনায় তাদের গ্রেফতার করা হয়েছেÑ সেটির সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। তবে দলিল নিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুষ নেয়া হয়। প্রথমে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা নেয়া হয়। পরে আরো ২০ হাজার টাকা কমিশন দেয়ার কথা ছিল। দলিলদাতাদের একজন উপস্থিত হতে না পারায় তার বাসায় গিয়ে ওই টাকা নেয়ার কথা ছিল। দলিলে কোনো ত্রুটি না থাকলেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা নেয়া হয়।
দুদক সূত্র জানায়, এক আইনজীবী তার মক্কেলের দু’টি অংশীদারী চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য নগরের আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। দলিল দু’টিতে কোনো ত্রুটি না থাকলেও নিবন্ধন আটকে রাখা হয়। পরে ওই আইনজীবী দুদকের হটলাইন ১০৬ নম্বরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর মঙ্গলবার বিকেলে ওই আইনজীবী ঘুষের টাকা দিতে কার্যালয়ে যান। এ সময় দুদকের একটি দল অভিযান চালিয়ে ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড কার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেÑ পরে এ ঘটনায় মামলা করা হয়।

Advertisement