খেলাপি ঋণ, বাংলাদেশ ব্যাংক
বাংলাদেশ ব্যাংক ইন্টারনেট

 


* শীর্ষ ১০ ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের ৭৩.৬৩ শতাংশ
* ২০ খেলাপির তালিকায় বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর আধিপত্য


অবসরকালীন নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে লাখো মানুষ সারা জীবন ভরে সঞ্চয় করেছিলেন। হাজার হাজার মানুষের ছোট ছোট সঞ্চয়। একজন দিনমজুরের জমা, একজন শিক্ষকের সঞ্চয়, একজন প্রবাসীর পাঠানো টাকা কিংবা একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষের জীবনের শেষ সম্বল-সবই ব্যাংকের আমানতের অংশ। কিন্তু এস আলম, শিকদার গ্রুপ, বেক্সিমকোসহ কিছু অলিগার্ক শ্রেণী মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে তা ঋণ আকারে বের করে নেন। কিন্তু ওই অর্থ এখন আর ফেরত দিচ্ছেন না। ফলে দেশের ব্যাংকিংখাতে বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণের পাহাড় জমে গেছে। সর্বশেষ হিসাবে গত জুন শেষে খেলাপি  ঋণের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ব্যাংকেরই প্রায় ৭৪ শতাংশ। এসব ঋণের বেশিরভাগ শীর্ষ ২০ ব্যবসায়ীর পেটে চলে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি বছরের জুন শেষে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংক থেকে বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে প্রায় ৩৩ টাকা এখন খেলাপি। মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। তিন মাসে তা বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। তবে খেলাপি ঋণের পুরো চিত্রটি আরো উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে যখন ব্যাংকভিত্তিক হিসাব দেখা হয়। ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ১০টি ব্যাংকের কাছেই রয়েছে মোট খেলাপি ঋণের ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সিএফএ সোসাইটি বাংলাদেশের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এ ১০ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় চার লাখ ৩৯ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা। তালিকায় রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। এ বিপুল অঙ্কের ঋণের পেছনে কারা রয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা নিয়েছে, কতবার পুনঃতফসিলের সুযোগ পেয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত সে অর্থ কোথায় গেছে-এসব প্রশ্নের উত্তর এখন ব্যাংক খাতের সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের বিষয়।
সংসদে প্রকাশিত শীর্ষ ২০
চলতি বছরের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেন। তবে তালিকাটি ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ওই সময় ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণ ছিল পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩১ কোটি টাকা। শীর্ষ ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এস আলম তার নামে-বেনামে প্রতিষ্ঠান রয়েছে প্রায় অর্ধেক। এর মধ্যে রয়েছে-এস আলম সুপার এডিবল অয়েল, এস আলম ভেজিটেবল অয়েল, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস, সোনালী ট্রেডার্স, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি বা বেক্সিমকো, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন, কেমুন ইস্পাত, এস আলম ট্রেডিং, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস, কেয়া কসমেটিকস, দেশবন্ধু সুগার মিলস, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা কেরানীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট, পাওয়ারপ্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট, প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম বা সিটিসেল, কর্ণফুলী ফুডস, মুরাদ এন্টারপ্রাইজ, সিএলসি পাওয়ার, বেক্সিমকো কমিউনিকেশনস এবং রংধনু বিল্ডার্স। তালিকাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো একই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে শীর্ষ ২০-এর ১০ বা ১১টি প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের সাথে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত বলে চিহ্নিত হয়েছে। বেক্সিমকো, সিকদার, দেশবন্ধু, মাইশা ও রংধনু গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠানও তালিকায় রয়েছে।
এখানে অনুসন্ধানের বড় প্রশ্ন হলো-একই ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একাধিক প্রতিষ্ঠান কিভাবে একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ পেল এবং সে ঋণের ব্যবহার কতটা স্বচ্ছ ছিল?
এস আলম-সংশ্লিষ্ট ঋণের অধিক্য
এস আলম-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম শীর্ষ ২০-এর তালিকায় বারবার আসায় ব্যাংকভিত্তিক ঋণের আধিক্য সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের ঋণ নেয়া হয়েছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও রাষ্ট্রীয় জনতা ব্যাংক থেকে। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রভাবশালী অবস্থানে ছিল এবং ওই সময়ে গ্রুপটির সাথে ব্যাংকটির ঋণ-সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের আরেক পরিসংখ্যান মতে, ১৩টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে এস আলম ঋণের নামে বের করে নেন সোয়া দুই লাখ কোটি টাকা। তিনি এখন ব্যাংকের কোনো অর্থই পরিশোধ করছেন না, বরং বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে রয়েছেন।
পুনঃতফসিল : ঋণ উদ্ধার, নাকি সময় বাড়ানো?
বড় ঋণখেলাপিদের ক্ষেত্রে বারবার পুনঃতফসিলের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিষ্ঠান সাময়িক ব্যবসায়িক সমস্যায় পড়লে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ পেতে পারে। কিন্তু একই ঋণ বারবার পুনঃতফসিলের পরও যদি খেলাপি হয়ে যায়, তাহলে ব্যাংকের ঋণ মূল্যায়ন ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বেক্সিমকোর ঋণের ক্ষেত্রে অতীতে একাধিকবার পুনঃতফসিলের তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। একটি প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকে বেক্সিমকোর ঋণ সাতবার পর্যন্ত পুনঃতফসিল করা হয়েছিল।
আরো বড় বিষয় হলো, পুনঃতফসিল করা ঋণের একটি অংশ পরবর্তী সময়ে আবার খেলাপি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংক খাতে পুনঃতফসিল করা ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় তিন লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় এক লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ ৩৮ দশমিক ৪২ শতাংশ, পরে আবার খেলাপি হয়ে যায়। এটি প্রশ্ন তোলে-পুনঃতফসিলের মাধ্যমে কি প্রকৃতপক্ষে ঋণ আদায়ের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে, নাকি খেলাপি ঋণের স্বীকৃতি শুধু পিছিয়ে যাচ্ছে?
গ্লোবাল ট্রেডিংয়ের মামলা
এস আলম-সংশ্লিষ্ট গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশনের ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনতা ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ ও সুদ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের দায় প্রায় এক হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা হয়। ঋণটি একাধিকবার পুনঃতফসিল করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে আবার পুনঃতফসিলের আবেদন করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক তা প্রত্যাখ্যান করে। ঋণের বিপরীতে চট্টগ্রাম ও গাজীপুরে প্রায় এক হাজার ৮৬০ ডেসিমাল জমি বন্ধক ছিল। প্রতিবেদনে ওই সম্পত্তির সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ৩৫৮ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঋণের অঙ্ক ও জামানতের মূল্যের এ ব্যবধান অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের প্রকৃত উদ্ধারযোগ্য অর্থ নির্ভর করবে জামানত কত টাকায় বিক্রি করা যায় তার ওপর। এই ঋণকে কেন্দ্র করে আদালতে মামলা হয়েছে। এস আলম পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের চাপ
খেলাপি ঋণের বড় অংশ রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপরও চাপ তৈরি করেছে। জুন শেষে ছয় রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ২৮১ কোটি এবং সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু বেসরকারি ব্যাংক নয়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ঋণ ব্যবস্থাপনাও বড় সঙ্কটের মুখে।
প্রভিশন ঘাটতিতে আরও চাপ
খেলাপি ঋণের পাশাপাশি ব্যাংকের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো সম্ভাব্য ঋণক্ষতির বিপরীতে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ না থাকা। গত জুনের তথ্য অনুযায়ী, ১৫টি ব্যাংকের সম্মিলিত প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ২৯ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা। এর অর্থ, বিপুল খেলাপি ঋণের বিপরীতে সম্ভাব্য ক্ষতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় অর্থ ব্যাংকগুলোর হাতে পুরোপুরি নেই। এতে ব্যাংকের মূলধন, মুনাফা এবং নতুন ঋণ দেয়ার সক্ষমতার ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।
শেষ পর্যন্ত ঝুঁঁকিতে কার টাকা?
খেলাপি ঋণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো-ব্যাংকের অর্থের বড় উৎস সাধারণ মানুষের আমানত। ঋণগ্রহীতা টাকা ফেরত না দিলে ব্যাংকের আর্থিক ঘাটতি শেষ পর্যন্ত আমানতকারী, ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার এবং প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। এ কারণে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। জুনের শুরু পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রায় ৭৫ হাজার ৯০৩ কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দিয়েছিল বলে অর্থমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন। এ সহায়তার অর্থ হলো, ঋণ আদায়ে ব্যর্থতা শুধু ব্যাংকের আয় কমায় না; সঙ্কটে পড়া ব্যাংকের দৈনন্দিন দায় পরিশোধের সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
কোথায় গেছে টাকা?
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, খেলাপি ঋণের পাহাড়ের প্রকৃত কারণ খুঁজতে হলে শুধু খেলাপির তালিকা যথেষ্ট নয়। প্রতিটি বড় ঋণের জন্য তৈরি করতে হবে পূর্ণাঙ্গ অর্থের গতিপথ। কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা ঋণ নিয়েছে, কোন ব্যাংক দিয়েছে, অনুমোদিত ঋণসীমা কত ছিল, বাস্তবে কত টাকা ছাড় হয়েছে, কতবার পুনঃতফসিল হয়েছে, ঋণের বিপরীতে কী সম্পদ বন্ধক রাখা হয়েছে, সে সম্পদের বর্তমান মূল্য কত, প্রতিষ্ঠানের পরিচালক কারা, একই মালিকের অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আছে এবং ঋণের অর্থ কোথায় ব্যবহার হয়েছে-এসব তথ্য একসাথে বিশ্লেষণ করতে হবে। এর সাথে মিলিয়ে দেখতে হবে কোম্পানির নিবন্ধন নথি, শেয়ার মালিকানা, পরিচালনা পর্ষদের পরিবর্তন, ব্যাংকের ঋণ অনুমোদনের নথি, জামানতের কাগজপত্র এবং আদালতের মামলার নথি। তবেই বোঝা যাবে-কোন ঋণ সত্যিকারের ব্যবসায়িক ঝুঁঁকির কারণে খেলাপি হয়েছে আর কোন ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ অনুমোদন, ব্যবহার বা পুনঃতফসিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
জুন  শেষে ছয় লাখ ছয় হাজার ৫৫৫ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বাংলাদেশের ব্যাংকিংখাতের গভীর সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে শীর্ষ ১০ ব্যাংকে খেলাপি ঋণের ৭৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ কেন্দ্রীভূত হওয়া, বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোর একাধিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি তালিকায় থাকা, বারবার পুনঃতফসিল, আদালতে চলমান মামলা এবং দুই লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকার সংরক্ষণ ঘাটতি। তবে এ সংখ্যাগুলোর পেছনের আসল গল্প এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। কারণ প্রশ্নটি শুধু-কারা ঋণখেলাপি? প্রশ্ন হলো-কোন ব্যাংক কাকে কত টাকা দিয়েছে, কিভাবে দিয়েছে, কী জামানত নিয়েছে, কতবার সময় বাড়িয়েছে, ঋণের টাকা কোথায় গেছে এবং শেষ পর্যন্ত সে টাকা ফেরত আনার দায় কে নেবে? ছয় লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণের হিসাবের পেছনে শুধু ব্যাংকের খাতা নেই-আছে লাখো মানুষের সঞ্চয়, অবসরকালীন নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং একটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা। বড় ঋণগ্রহীতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ক্ষতির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে ব্যাংক, রাষ্ট্র এবং আমানতকারীকেই বহন করতে হয়।