রাজধানীতে নাশকতার ঘটনায় আ’লীগ নেতাসহ গ্রেফতার ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যাতে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চারজনকে গ্রেফতার করেছে। গতকাল ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 
ডিবি জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বংশাল এলাকা থেকে রায়হান উদ্দিন (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের বংশালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দফতর সম্পাদক। রায়হানের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগের জেন সাহা রোডের একটি ১০ তলা ভবনের পার্কিংয়ে রাখা ইটের সুরকির বস্তা থেকে চারটি কসটেপ মোড়ানো অবিস্ফোরিত ককটেল জব্দ করে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। পরে ডেমরার ডগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার সহযোগী রাসেল খান, আলাউদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। পরে গতকাল আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং রিমান্ড শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।
ডিএমপির ডিবি ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোল্লা মো: শাহীন সংবাদ সম্মেলনে জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের সাথে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের মোবাইলে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে। মূলত জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেই তারা শহরজুড়ে এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে ডিবি। 
এদিকে রাজধানীর আজিমপুর মেটানির ওভারব্রিজের নিচে রাখা ভিআইপি পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়ার চেষ্টাকালে আমিনুল ইসলাম শাওন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছেন স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন শ্রমিকরা।
শনিবার রাতে আগুন দেয়ার বিষয়টি বাসের স্টাফ ও স্থানীয়দের নজরে এলে তারা উত্তেজিত হয়ে ওই ব্যক্তিকে মারধর করেন। খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। লালবাগ থানার বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে  এবং তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সাথে জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজের সামনে ছাত্রলীগ সন্দেহে স্নিগ্ধ কুমার রায় নামে এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। স্নিগ্ধ কলেজের  ২০২০-২১ বর্ষের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল হোসেন জানান, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ওই যুবককে থানায় সোপর্দ করলেও সে আসলেই ছাত্রলীগের সাথে জড়িত ছিল কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।