সন্ধ্যার ভাঙনে বিলীন তিন গ্রামের বসতভিটা

উজিরপুর (বরিশাল) সংবাদদাতা 
বালু উত্তোলনের বিরূপ প্রভাব ও নদীর অব্যাহত ভাঙনে বরিশালের উজিরপুরে সঙ্কুচিত হয়ে আসছে তিন গ্রামের মানুষের বসতভিটা। উপজেলার বরাকোঠা ইউনিয়নের নারিকেলী, চাউলাহার ও লস্করপুরে সন্ধ্যা নদীর ভাঙনে ইতোমধ্যে অর্ধশত পরিবার বিপর্যস্ত হয়েছে। কারো বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে, কারো ঘর ঠেকেছে ভাঙনকবলিত পাড়ের কিনারে। হারিয়ে যাচ্ছে ফসলিজমিও। ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় প্রকল্প নেয়া হলেও সেটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। 
গত বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত তিন গ্রামে সরেজমিন দেখা যায়, সন্ধ্যা নদীর তীরজুড়ে ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। কোথাও পাড় ধসে পড়ছে, কোথাও বসতভিটা চলে এসেছে নদীর একেবারে কিনারে। ভাঙনের আশঙ্কায় নিজের কাঠের ঘর খুলে সরিয়ে নিচ্ছিলেন রমেন চন্দ্র বাড়ই। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অন্তত ২০০ মিটার এলাকায় জিওব্যাগ ফেললে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হতো। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো বসতভিটা নদীতে চলে যাবে। 
চাউলাহার গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এবারের ভাঙনে অন্তত ২০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বসতভিটার পাশাপাশি আবাদি জমিও নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ জীবিকার সন্ধানে ঢাকা ও বিভিন্ন শহরে চলে গেছেন। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, বানারীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন। তবে বালু উত্তোলনই ভাঙনের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত হতে কারিগরি ও পরিবেশগত তদন্ত জরুরি। নদীর তলদেশ, স্রোতের গতিপথ ও বালু উত্তোলনের স্থান পর্যালোচনা করে ভাঙনের প্রকৃত কারণ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: জাবেদ ইকবাল বলেন, সন্ধ্যা নদীর ভাঙনের বিষয়টি তাদের জানা আছে। ভাঙন প্রতিরোধে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় বেড়িবাঁধ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি এখন অনুমোদনের অপেক্ষায়। 
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলী সুজা বলেন, ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বালু উত্তোলনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। 
এ দিকে নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো মানুষের প্রশ্ন- প্রকল্পের অনুমোদন আর কত দিনে হবে? অনুমোদনের আগেই যদি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দায় কে নেবে?