শয্যার দ্বিগুণ রোগী, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত সৈয়দ নজরুল মেডিক্যালে

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ রোগীর চাপ এবং তীব্র চিকিৎসক-প্রযুক্তি সঙ্কটে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে জেলার একমাত্র এই সরকারি হাসপাতালে সেবাগ্রহীতার সংখ্যা বাড়লেও সে অনুযায়ী বাড়েনি চিকিৎসা সক্ষমতা। গতকাল শনিবার আয়োজিত এক ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে হাসপাতালের নানা সঙ্কটের চিত্র তুলে ধরেন ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা: মো: সাইফুল ইসলাম।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে সাতশর বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। গতকাল শনিবার সেখানে ৭৯৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন, যার মধ্যে কেবল মেডিসিন বিভাগেই ২৭৬ জন এবং শিশু বিভাগে ১৬১ জন রোগী ছিলেন। এই অতিরিক্ত চাপের সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র জনবল সঙ্কট। চক্ষু, অর্থোপেডিক, ফরেনসিক এবং রেডিওলজি-ইমেজিং বিভাগে বর্তমানে কোনো চিকিৎসকই নেই। তা ছাড়া অনুমোদিত ৭৪৫টি পদের মধ্যে ১০৭টি পদই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
প্রযুক্তিগত সঙ্কটে চিকিৎসা কার্যক্রমে স্থবির হয়ে পড়েছে। ডায়ালাইসিস বিভাগে ৫০টি মেশিন স্থাপনের অবকাঠামো থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৬টি মেশিন দিয়ে তিন শিফটে সেবা দেয়া হচ্ছে। ফলে প্রায় ২০০ জন মুমূর্ষু রোগী দীর্ঘ অপেক্ষামান রয়েছে। মর্গের অবস্থা আরো আশঙ্কাজনক। ১২টি ফ্রিজারের মধ্যে ১১টিই বিকল হয়ে পড়েছে। মাত্র একটি সচল ফ্রিজারের কারণে দুর্ঘটনায় মৃত ব্যক্তিদের লাশ পচে গিয়ে ময়নাতদন্তের কাজে চরম ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। এমনকি ৪০টি এসি কেবিনের মধ্যে ২০টির এসি নষ্ট থাকায় টাকা দিয়েও রোগীরা কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও জনবল সঙ্কট সত্ত্বেও গত এক বছরে বহির্বিভাগে আড়াই লাখের বেশি এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় দুই লাখ ৬৮ হাজার রোগীকে সেবা দিয়েছে হাসপাতালটি। ডেঙ্গু ও হাম আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবুও বার্ন ইউনিট, ইউরোলজি ও নিউরোসার্জারির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো পুরোপুরি চালু হয়নি।
হাসপাতালের উন্নয়ন ও সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অটোমেশন পদ্ধতি চালু, অতিরিক্ত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ, স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, ভবন ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ এবং ডেডিকেটেড বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জোর দাবি জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক এবং স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।