
খালিদ সাইফুল্লাহ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আজকের দ্বিতীয় দফার লংমার্চ দেখে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। আমাদের হুমকি দিচ্ছে।
মাথা গরম করবেন না, জনগণের গণদাবি মেনে নিন। তিনি আরো বলেন, যদি দাবি মেনে না নেয়া হয় তাহলে আমাদের আট দফা এক দফায় পরিণত হবে। তখন কোনো ষড়যন্ত্র কাজে আসবে না। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি জনগণের দাবি আদায় করে ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।
গতকাল ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চের সমাবেশ ও পথসভাগুলোতে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন; সঙ্কীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল ১১ দলীয় ঐক্য এ লংমার্চের আয়োজন করে। সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর সকাল ৮টায় গাড়িবহর রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে। এ সময় রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মহিলা, পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ বহরকে অভিবাদন জানায়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোড; টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস রোড; সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল মোড়; বগুড়ায় মাটিডালি বিমান মোড় এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া শেরপুরের চান্দাইকোনায় অনির্ধারিত একটি পথসভায় বক্তৃতা করেন বিরোধী দলীয় নেতা। সবশেষ রংপুরের জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের এ লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা দলীয় দাবি নিয়ে আন্দোলনে নামিনি। আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি।
তিনি বলেন, নতুন স্বৈরাচারের জন্য আমরা জীবন দিইনি। নতুন স্বৈরাচারে পথে হাঁটা সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেয়া ৭০% মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেঈমানি ও প্রতারণা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে জনগণের সাথে ধোঁকাবাজি করছে। জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠন করা হয়েছে তারাই জুলাইয়ের সাথে গাদদারি করছে।
তারা নির্বাচনের আগে বলেছিল- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। তারা এখন জুলাই সনদ কেন বাস্তবায়ন করছেন না। কেন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করছেন না? বিএনপি জাতির সাথে প্রতারণা করছে।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, সকল প্রকার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।
তিনি বলেন, সারাদেশব্যাপী দখলদারি, চাঁদাবাজি লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। জুলাইয়ের দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয়করণ করেছে। তারা ফ্যাসিবাদের পথেই হাঁটছে, যা চলতে দেয়া যায় না। জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়নে তাদের বাধ্য করা হবে।
তিনি বলেন, ১১ দল শুধু জনগণের দাবি আদায়ে ডাক দিয়েছে, তবে এ দাবি জনগণকে সাথে নিয়েই বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে বিএনপি বিরোধী দল থাকাকালীন যে দাবি করেছিল বর্তমান সেই দাবিই করছে বিরোধী দল। সরকার বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও ডাবল বিদ্যুৎ বিল ধরিয়ে দিচ্ছে জনগণের হাতে।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, কাঠফাটা রোদের মধ্যে আপনাদের দাঁড়িয়ে থাকাই প্রমাণ করে আট দফা দাবি আদায়ে আপনারা প্রস্তুত আছেন। এটা দেখে আমাদের আস্থা বেড়ে গেল। আট দফা দাবি না মানলে এক দফার জন্য আপনারা প্রস্তুত হন। দেখা হবে রাজপথে ইনশাআল্লাহ।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে।
বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচার বসেছে। সামনে আমাদের কঠিন লড়াই। গত সাত মাসে পদে পদে দলীয়করণ করা হয়েছে। কথা ছিল বৈষম্যমুক্ত, দুর্নীতমুক্ত রাষ্ট্র উপহার দেয়ার মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কিভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে যাবেন নাকি সম্মানের সাথে ক্ষমতা ছাড়বেন।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বন্ধ হয়ে যাবে এজন্য বিএনপি কর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। এ সরকার বিএনপির সরকার না হাসিনার সরকার। আমরা লংমার্চ করছি দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য। কোনো মুনাফেকের কথায় বিপথগামী হবেন না।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রায় বাস্তবায়ন না করলে তারা ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তিনি আরো বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চে জনগণের ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করেছে- জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নেমেছে। জনগণের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হলে সরকার যে ভাষায় কথা বুঝবে, সে ভাষায় কথা বলা হবে। অধিকার আদায়ের ডাক এলে সাড়া দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন চায় জনগণ। একই দিন দু’টি ভোট হলো। একটি মেনে ক্ষমতায় বসলেন, আর একটি মানল না বিএনপি। গণভোটের রায় না মানলে, হাসিনার মতো জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা করে তাহলে আবারো ঢাকায় আসার ডাক আসবে, তখন তাদের পরিণতিও একই হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান দেখানো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান শর্ত। জনগণ যে রায় দিয়েছে তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু বিএনপি তা মানছে না। তাদের মানতে বাধ্য করা হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা লংমার্চ করছি এই সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে যে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তা কোটি কোটি মানুষকে জানাতে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি বলেন, সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে। তারা নির্বাচনের আগে হ্যাঁয়ের পক্ষে ভোট চাইলেও জনগণের রায় মানছে না। এখন জনগণকেই তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকারি দলের চাঁদাবাজিতে জনগণ অতিষ্ঠ। জ্বালানি সঙ্কটে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ধ্বংসের পথে। এ সরকার জনগণের সাথে নেই। জনগণও আগামীতে তাদের প্রত্যাখান করবে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী। এটি বাতিল করতে হবে।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ লাখ লাখ জনতার ভালোবাসা নিয়ে শহীদ আবু সাঈদের জনপদে অগ্রসর হচ্ছে। আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সঙ্কট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। যত দিন আমাদের দাবি আদায় না হয়, তত দিন আমাদের আন্দোলন চলবে।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র ছয় মাসে জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে, যা নজিরবিহীন।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সরকার জুলাই সনদের সাথে প্রতারণা করেছে। ক্যাম্পাসগুলো অস্থিতিশীল করছে।
বিভিন্ন পথসভা ও সমাবেশে আরো বক্তৃতা করেন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সার্জিস আলম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি ও উত্তরের সেক্রেটারি জেনারেল ড. রেজাউল করিম, ছাত্রশিবির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসু ভিপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়রপ্রার্থী সাদিক কায়েম প্রমুখ।
লংমার্চকে স্বাগত জানাতে রাজপথে নারীরা : বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখী লংমার্চে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাবেশ শেষে রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হলে জাতীয় সংসদের পূর্ব পাশের রোড, মহাখালী, বনানী, উত্তরা, গাজীপুর, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন স্পটে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে নারীরা হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। বিশেষ করে জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতাকর্মীরা পুরুষদের পাশেই আলাদাভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে লংমার্চকে স্বাগত জানান। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
৮ দফা ১ দফায় পরিণত হতে পারে
গাজীপুর মহানগর ও জেলা প্রতিনিধি জানান, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জনগণের আট দফা দাবিতে রাস্তায় নেমেছি। এই আট দফা যেকোনো সময় এক দফায় পরিণত হতে পারে। গতকাল গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রথম পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি এ এস এম ফারুকের সঞ্চালনায় পথসভায় ডা: শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেয়া, শিল্পের চাকা সচল রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সার সঙ্কট দূর করা, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধ, দুর্নীতিমুক্ত দেশ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের দাবিতে এই লংমার্চ। কোটি মানুষের দাবি নিয়ে আমরা রাস্তায় নেমেছি। সরকার গণভোটের অধিকার থেকে মানুষকে বঞ্চিত করেছে। গণরায় ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইনশা আল্লাহ দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব।
এর আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হয়।
গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে ছিল লংমার্চের প্রথম পথসভা। সকাল থেকেই পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে নির্ধারিত পথসভা একপর্যায়ে জনসভায় রূপ নেয়।
এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ বলেন, গণরায়সহ আট দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী বন্ধ হবে, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তন হবে। আমরা লংমার্চ করছি দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করলে ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।
জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য আব্দুর রব, এ বি পার্টির জাতীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কাশেম কাশেমী, গাজীপুর জেলা জামায়াতের আমির ড. জাহাঙ্গীর আলম, সেক্রেটারি মো: শফিউদ্দিন, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মো: খায়রুল হাসান, মো: হোসেন আলী প্রমুখ।
দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বছেলেন, স্বৈরশাসক থেকে দেশকে মুক্ত করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। এই লড়াই জনগণের জন্য, ১৮ কোটি মানুষের জন্য। জনগণের দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশা আল্লাহ। এর মাঝখানে আর কোনো বিশ্রাম নেই। অবিরাম এই কাফেলা চলতে থাকবে ইনশা আল্লাহ।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগরজফৈতে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ১১ দলীয় ঐক্য টাঙ্গাইল জেলা শাখা এই পথসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির আহছান হাবীব মাসুদ, পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মো: হুমায়ুন কবীর।
দেশের চলমান দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিসহ সরকারের বিভিন্ন অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, লড়াই হবে সব দুঃশাসনের বিরুদ্ধে। সেই লড়াইয়ে জনতার বিজয় হবে। আমাদের ছয় দফা এখন আট দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনের দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত করে এক দফা ঘোষণা করা হতে পারে। আপনারা প্রস্তুত থাকুন। আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে, আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশা আল্লাহ।
পথসভায় আরো বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, এ বি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. আহসান হাবীব ইমরোজ প্রমুখ।
লুটপাট দখলদারি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ও উল্লাপাড়া সংবাদদাতা জানান, ১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চে সিরাজগঞ্জের হাঁটিকুমরুলের বিশাল জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বিএনপি জনগণের সাথে বেইমানি করেছে। জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ধোঁকাবাজি করছে। দেশব্যাপী দখলদারি, চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। জুলাইয়ের দাবি ছিল দেশের সংস্কার, গণহত্যার বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন। কিন্তু বিএনপি জুলাই চেতনা পদদলিত করে একচেটিয়া দলীয়করণ করছে, ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে; যা চলতে দেয়া যায় না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে বিএনপিকে বাধ্য করা হবে।
গতকাল দুপুরে উল্লাপাড়া উপজেলার হাঁটিকুমরুল গোল চত্বর এলাকায় প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে লংমার্চের পথসভায় হাজারো মানুষের ঢল নামে।
সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব:) অলি আহমেদ, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের চেয়ারম্যান মামুনুল হক, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ঢাকা দক্ষিণ জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম, এ বি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সচিব সারজিস আলম প্রমুখ। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে লংমার্চ রংপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।
বৈষম্য বরদাশত করব না
বগুড়া অফিস জানায়, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করুন। জনগণের সাথে প্রতারণা করবেন না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার ও দাবি আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। প্রয়োজনে জীবন দেবো, কিন্তু দাবি আদায় না করে ঘরে ফিরব না।
তিনি গতকাল বিকেলে ১১ দলীয় জোটের ঢাকা রংপুর দ্বিতীয় দফার লংমার্চ চলাকালে বগুড়ার মাটিডালী বিমান মোড়ে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন। লংমার্চ বগুড়ায় পৌঁছালে স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের ঢলে সমাবেশস্থল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বক্তব্যে আমিরে জামায়াত বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতি ও ব্যর্থতার সমালোচনা করেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ দিতে পারে না, অথচ দ্বিগুণ-তিনগুণ ভুতুড়ে বিল মানুষের হাতে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহের চরম ব্যর্থতা ঢাকতে দায়িত্বজ্ঞানহীন অজুহাত দেয়া হচ্ছে।
’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০ সন্তান জীবন দিয়েছিল বৈষম্যহীন সমাজের জন্য। অথচ আজ নতুন চক্রান্তে ভাইভা পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে দলীয় ক্যাডারদের বসানোর পাঁয়তারা চলছে। আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য আবারো জীবন দিতে প্রস্তুত, কিন্তু এ বৈষম্য বরদাশত করব না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সন্তান নিখোঁজের পর লাশ উদ্ধারের মর্মান্তিক ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, আমরা সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। পুরো দেশে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। ১১ দলের পক্ষ থেকে ঘোষিত ৮ দফা দাবি কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়, এটি ১৮ কোটি মানুষের দাবি। যদি এই ৮ দফা মানা না হয়, তবে জনগণ ‘এক দফা’ আন্দোলনের দিকে যেতে বাধ্য হবে এবং রাজপথেই এর চূড়ান্ত ফয়সালা হবে। বগুড়া মহানগরী জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব:) অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এনসিপি সভাপতি নাহিদ ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এমপি, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ সাহাবুদ্দিন, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান ইরান, জাগপার রাশেদ প্রধান, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। প্রচণ্ড তাপদাহ উপেক্ষা করে লক্ষাধিক মানুষ জনসভায় অংশ নেন।







