বন্ধ শিল্প-সেবা খাতে ২০ হাজার কোটি টাকার স্কিমে নতুন সুবিধা

বিশেষ সংবাদদাতা

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় চালু এবং উৎপাদন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হয়েছে। একই সাথে স্কিমের তিন বছর মেয়াদের মধ্যে তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো সময় প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কয়েক দফায় জারিকৃত সার্কুলারের সংশোধনী এনে বৃহস্পতিবার নতুন সার্কুলার জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশোধিত নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের নির্দেশনায় বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত ‘বৃহৎ শিল্প’ শব্দের পরিবর্তে ‘শিল্প’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে স্কিমটির আওতায় সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে শিল্প প্রতিষ্ঠানের পরিধি আগের তুলনায় বিস্তৃত হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় ব্যাংক পর্যায়ে প্রাক-অর্থায়নের সুদের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক   থেকে যে প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণ করবে, তার বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে এই সুদ তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে হবে না। প্রাক-অর্থায়ন গ্রহণের ছয় মাস পর থেকে সুদ পরিশোধ শুরু হবে। প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরবর্তী সময়ে পরিশোধের সাথে যুক্ত থাকবে। স্কিমটির আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণ বিতরণের পর সংশ্লিষ্ট শিল্প বা সেবা প্রতিষ্ঠানকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেয়া হবে। এই সময়ে ঋণের সুদ আদায় শুরু হবে না। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও আদায়ের সাথে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। 
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সংশোধিত নির্দেশনায় স্কিমটির আওতায় আবেদন করার সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সংযোজিত বিধান অনুযায়ী, স্কিমের আওতায় তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে তিন বছর মেয়াদকালের মধ্যে যেকোনো সময় প্রাক-অর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে। এর ফলে যোগ্য শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো স্বল্প সময়ের মধ্যে আবেদন করার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্কিমের মেয়াদজুড়ে তহবিলের প্রাপ্যতা অনুযায়ী তারা আবেদন করার সুযোগ পাবে।
নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে ২০ হাজার কোটি টাকার এ প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক, গ্রাহক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সুদ পরিশোধ, গ্রেস পিরিয়ড ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি স্পষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।