পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে

বিশেষ সংবাদদাতা 

অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রজ্ঞাপনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন বাড়ছে পাঁচ ধাপে। ফলে যেসব পেনশনভোগী দীর্ঘ দিন আগে অবসরে গেছেন ও তুলনামূলক কম পেনশন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পেনশন বাড়ার পরিমাণ বেশি হবে। 
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী এ হারের কথা বলা হয়েছে। 
সর্বনিম্ন পর্যায়ের বর্তমানে যারা ৯ হাজার টাকা পেনশন পান, তারা এখন পাবেন ১৮ হাজার টাকা। আর বর্তমানে সর্বোচ্চ যারা মাসে ৪০ হাজার এক টাকা থেকে তার বেশি পেনশন পান, তারা পাবেন ৭০ হাজার ২০০ টাকা টাকা।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন গ্রহণকারীদের পেনশন ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ আর ৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে নিট পেনশন বাড়বে ৫৫ শতাংশ। 
শতভাগ পেনশন : ১ জুলাই ২০২৭ তারিখ থেকে নতুন স্কেলের আওতায় পূর্ণ নিট পেনশন কার্যকর করা হবে।
অবসর-উত্তর ছুটি (পিএলআর) : ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে যারা পিআরএল শেষে চূড়ান্ত অবসরে যাবেন, তাদের গ্রস ও নিট  পেনশন ২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেল অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হবে।
পাহাড়, হাওর ও চর এলাকায় অতিরিক্ত সুবিধা : পার্বত্য জেলার সদর ও সদর উপজেলায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পাহাড়ি ভাতা পাবেন। অন্যান্য উপজেলায় একই হারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। হাওর, দ্বীপ ও চর এলাকায় কর্মরতরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা মাসিক ভাতা পাবেন। প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে শুধু প্রশিক্ষণ কাজে প্রেষণে থাকা নবম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা মূল বেতনের ১০ শতাংশ হারে মাসিক প্রেষণ ভাতা পাবেন।
অনলাইনে বেতন নির্ধারণ : নতুন বেতনস্কেল কার্যকর হওয়ার পর সরকারি কর্মচারীদের অনলাইনে বেতন নির্ধারণ করতে হবে। এ জন্য আইবাস++ ব্যবস্থার ‘পে ফিক্সেশন’ অপশনে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হবে।
গেজেটেড কর্মচারীরা আইবাস++ ব্যবস্থায় ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে এবং নন-গেজেটেড কর্মচারীরা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্রবেশ করবেন। এরপর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে পাঠানো ওটিপির মাধ্যমে সিস্টেমে প্রবেশ করতে হবে।
তথ্য জমা দেয়ার পর ডিডিও তা হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠাবেন। হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে যাচাই করে অনুমোদন দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। এরপর ওই নির্ধারিত বেতনের ভিত্তিতেই বেতন পরিশোধ করা হবে।
আদেশের আওতাভুক্ত নয় যাঁরা : ১. বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস। ২. প্রতিরক্ষা সার্ভিসে নিয়োজিত সশস্ত্র বাহিনী। ৩. পুলিশ বাহিনী এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (ইএই)। ৪. রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিক। ৫. শিক্ষানবিশ, ট্রেইনি ও আউটসোর্সিংয়ের কর্মচারী। ৬. দৈনিকভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক (নীতিমালা ২০২৫ অনুযায়ী)। ৭. চুক্তিভিত্তিক বা খণ্ডকালীন নিয়োজিত ব্যক্তি।
জানা গেছে, আগামী মাসে এদের জন্য নতুন একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেখানে তাদের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি থাকবে।