
নিজস্ব প্রতিবেদক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরালের সূত্রধরে প্রত্যাহার হওয়া ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাকিবুল হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে নেয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে আসা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফিরে আসা নিয়ে অডিও কথোপকথনসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগের ভিত্তিতে ডিএমপির পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির একজন ডিবি কর্মকর্তা। যার কারণে তাকে ডিবি অফিসেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সূত্র জানিয়েছে, রাকিবুলের সরকারি ও ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনসহ কথোপকথনের সাথে জড়িতদের মোবাইল জব্দ করে ফরেনসিক টেস্টের জন্য পাঠানো হয়েছে। ফোনে কার কার সাথে কী ধরনের কথা হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাকিবুল ছাড়াও পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা পালিয়ে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, ইন্সপেক্টর রাকিবের বক্তব্য শুধু কথার কথা নয়, এর পেছনে বড় ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই ব্যবস্থা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে তাকে গ্রেফতার করা হবে কি না।
এর আগে গত দুই-তিন দিন ধরে ফেসবুকে ওসি রাকিবুলের নামে প্রচারিত একটি অডিও ঘুরছিল। ওই অডিওতে বলতে শোনা যায়, রাস্তায় থাকা পুলিশ খুবই দুর্বল। শেখ হাসিনা যদি ডিসেম্বরে ফিরে আসে, তবে তারা কিছুই করতে পারবে না। অডিওতে আরো দাবি করেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন, তবে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা তা করছেন না। এ ছাড়া পুলিশের পদায়নে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়েও তাকে কথা বলতে শোনা যায়। এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার প্রথমে প্রত্যাহার করা হয় ওসি রাকিবুলকে। পরে রাতেই তাকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে ওসি রাকিবুল এক ফেসবুক পোস্টে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে লেখেন, অডিও’র বক্তব্য তার নয়, এআই দিয়ে তৈরি করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।







