
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে স্বস্তি ফিরছে না। মাছ, মুরগি ও সবজির বাজার এখনো চড়া। এর মধ্যে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ সবজির দাম ৬০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে উঠেছে। কোনো কোনো সবজির দাম ছাড়িয়েছে ২০০ টাকা। মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হওয়ায় শিম বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৪০ টাকা পর্যন্ত। গোল বেগুনের দামও উঠেছে ১৪০ টাকায়। তবে কিছুটা স্বস্তি এসেছে ডিমের বাজারে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম কমেছে ১০ টাকা।
গতকাল (শুক্রবার) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে বর্তমানে ব্রয়লার সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায়। বাদামি ডিমের দাম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ডিমের ডজন ছিল ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি এবং বাজারে ডিমের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে।
বাজারে ডিম ব্যবসায়ী মাছুম বলেন, ‘ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা কমেছে। আজ ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং বাদামি ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন বিক্রি হচ্ছে। তবে ডিমে দাম কমলেও মাছ ও গোশতের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। মধ্যবিত্তের তুলনামূলক সাশ্রয়ী মাছ হিসেবে পরিচিত পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়াও এখন কেজিপ্রতি ২০০ টাকার ওপরে। বাজারে পাঙ্গাশের কেজি শুরু হচ্ছে ২৩০ টাকা থেকে এবং তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২৬০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া মানভেদে চিংড়ি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, বড় রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, ট্যাংরা ৭০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশী কৈ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা এবং চাষের কৈ ২৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিং মাছের দাম আকারভেদে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। মাঝারি রুই ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা কেজি। নদীর মাছের ক্ষেত্রে দাম আরো বেশি; রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে কেজিতে হাজার টাকারও বেশি গুনতে হচ্ছে।
দুয়ারীপাড়া বাজারে মাছ বিক্রেতা মহিউদ্দিন বলেন, মাছের দাম প্রতিদিনই কিছুটা ওঠানামা করে। মাছের সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে, কমলে দাম বেড়ে যায়। এর সাথে ক্রেতার চাহিদা ও আবহাওয়ারও প্রভাব রয়েছে। তিনি জানান, গতকাল কাতলা ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৭০০ টাকা এবং শিং মাছ ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছেন।
এদিকে মাছের পাশাপাশি মুরগির বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি গত সপ্তাহের মতোই কেজিপ্রতি ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি, হাইব্রিড ও লেয়ার মুরগির দামে সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। বাজারে সোনালি মুরগি ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা, হাইব্রিড ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দুয়ারীপাড়া বাজারে মুরগি বিক্রেতা আনিস আহমেদ বলেন, ব্রয়লার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই ১৯০ টাকা কেজি। বাজারে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এদিকে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হয়েছে সবজির বাজারে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে রাজধানীর খুচরা বাজারে। একইসাথে মৌসুমের শুরু না হওয়ায় কিছু সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেশি।
বর্তমানে বাজারে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম উঠেছে ২৪০ টাকা। গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি। কাঁচা মরিচের দামও ২০০ টাকা কেজি। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, ধন্দুল ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, পটল ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা এবং ঝিঙা ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া পেঁপে ৩০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৬০ টাকা, লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস, জালি ৫০ টাকা পিস এবং কাঁচা কলা ৪০ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মিরপুর ৬ নং সেকশনের বাজারে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘বাজারে এসে দেখছি সবজির দাম এখনো বাড়তি। বেশির ভাগ সবজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি। কিছু সবজি ৬০ টাকায় পাওয়া গেলেও সেগুলোর সংখ্যা কম। বিক্রেতারা বৃষ্টির কারণে দাম বাড়ার কথা বলছেন।’
একই বাজারে সবজি বিক্রেতা মুখলেসুর রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমেছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে দাম কিছুটা বেড়েছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে দামও কমতে পারে।
তিনি বলেন, শিমের মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি। ফলে এর দাম বেশি। একই কারণে বেগুনের দামও বাড়তি। বর্তমানে গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং শিম ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যপণ্যের বাজারে একদিকে সরবরাহ ও আবহাওয়ার প্রভাব, অন্যদিকে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপ রয়েছে। ফলে কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজারে তার প্রভাব খুব বেশি পড়ছে না। ডিমের দাম কমায় ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেলেও মাছ, মুরগি, গোশত ও সবজির বাড়তি দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয়ের চাপ কমছে না।
বাজার করতে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, তুলনামূলক কম দামের মাছ পাঙ্গাশ ও তেলাপিয়াও এখন আগের মতো সহজলভ্য নয়। ফলে পরিবারের খাবারের তালিকায় মাছের পরিমাণ কমাতে হচ্ছে। অনেক সীমিত আয়ের পরিবার নিয়মিত মাছ কেনাও কমিয়ে দিয়েছে। একইসাথে সবজির বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজির পণ্য বেশি থাকায় দৈনন্দিন রান্নার খরচও বেড়েছে।







