সৌদি আরব
হাউছি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সৌদি আরামকো টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত। নয়া দিগন্ত

ইয়েমেনের হাউছি (হুথি) আন্দোলনের ছোঁড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নিশ্চিত করেছে সৌদি আরব। একই দিনে (রোববার) দেশটির রাজধানী রিয়াদে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Advertisement

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ বা স্প্লিন্টার এসে পড়ার পর আরামকোর প্রশাসনিক ভবনটিতে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কোনো হতাহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আরো যোগ করেন যে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে।

Advertisement

রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, সৌদি রাজধানীর অন্যতম প্রধান ব্যবসায়িক এলাকা ‘কিং আবদুল্লাহ ফাইন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্ট’-এ অবস্থিত আরামকো টাওয়ারের একাধিক তলার কাচের জানালা ভেঙে চুরমার হতে দেখা গেছে।

রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ এবং সৌদি সিভিল ডিফেন্সের জারি করা আগাম সতর্কবার্তার পরপরই এই ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। অবশ্য পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিপদ কেটে গেছে।

হাউছিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রোববার রিয়াদের দিকে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করেছে।

পরে জোটটি রাজধানী ও দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকায় আরো দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানায়।

এর আগে, জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিল্কি জানান, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে ছোঁড়া আরো একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে।

২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়া এবং ইয়েমেনে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর পর, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হাউছিদের মধ্যে সামরিক সংঘাত তীব্র হওয়ার ধারাবাহিকতায় এসব ঘটনা ঘটল।

হাউছি-পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, সানার কাছে আল-শারিয়াহ গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত আটজন নারী ও ১৩ জন শিশুসহ কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছে। এই ঘটনার ঠিক পরদিনই এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর এলো।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসকাহি জানান, শনিবারের হামলায় অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন। তার দাবি অনুযায়ী, রাজধানীর পূর্বে বানি হুশাইশ জেলায় অবস্থিত বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, প্যারামেডিক ও সিভিল ডিফেন্স দলকে লক্ষ্য করে ওই হামলাগুলো চালানো হয়।

প্রতিবেদনকৃত এসব হামলার বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং আল জাজিরাও নিহতের এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।

হাউছি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারে দাবি করেছেন, জোটটি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সানা ও আরো সাতটি গভর্নরেটকে লক্ষ্য করে ১০৫টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক উত্তেজনা শুরুর পর থেকে মোট হামলার সংখ্যা ৪,৩৬৯টিতে পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সারে জানান, হাউছিরা আরামকোর অবকাঠামো, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তের উভয় পাশের সৌদি সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে মোট ছয়টি অভিযান পরিচালনা করেছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার গত মাসে সানাসহ হাউছিদের দখলে থাকা ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে অভিযান শুরু করার পর নতুন করে এই উত্তেজনা দেখা দিলো। ২০১৪ সাল থেকে হাউছিরা সানা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই