
ইয়েমেনের হাউছিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। পরে রিয়াদ ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আরো দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া পোস্টে জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এসব তথ্য জানান। এর আগে হাউছিদের ছোড়া আরেকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে আসার সময় প্রতিহত করা হয়।
এদিকে ইয়েমেনে হাউছি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে লড়াই তীব্র হয়েছে। গত মাসে রাজধানী সানা-সহ হাউছিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকা পুনর্দখলে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। এর মধ্যে শনিবার সানার কাছে আল-শারিয়াহ গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হাউছি নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে আট নারী ও ১৩ শিশু। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। আল জাজিরা (৭ নভেম্বর) জানায়, হামলায় বাড়িঘর, সড়ক, চিকিৎসাকর্মী ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা দলের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তু হন। এ অভিযোগের বিষয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। আল জাজিরাও এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
হাউছি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ২৪ ঘণ্টায় সানা-সহ আটটি প্রদেশে জোট ১০৫টি বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। উত্তেজনা শুরুর পর থেকে হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৬৯টিতে। জবাবে সৌদি আরবের আরামকোর তেল স্থাপনা, রিয়াদ বিমানবন্দর এবং সীমান্তের দুই পাশের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ছয়টি অভিযান চালানোর দাবি করেছে হাউছিরা।
শুক্রবার তাইজ প্রদেশের একটি বাজারে হামলায় ৩০ জন নিহত হন। হাউছিরা এর জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করলেও সরকারি বাহিনীর অভিযোগ, হাউছিরা সেখানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেনে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে হাউছিরা লোহিত সাগর উপকূলের বড় অংশ দখল করে নেয়। এর পর অক্টোবরে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা পুনর্দখলে অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








