সৌদি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাজার
সৌদি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাজার। সংগৃহীত ছবি

ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়িজ প্রদেশের একটি জনাকীর্ণ বাজারে সৌদি আরবের তিন দফা বিমান হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৪০ জন। হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আল-মায়াদিন টেলিভিশন জানিয়েছে, শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তায়িজ প্রদেশের আল-ওয়াজিয়াহ জেলার আল-হাধারা বাজারে এ হামলা চালানো হয়। হামলার সময় বাজারটি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভিড়ে পরিপূর্ণ ছিল। কেনাকাটা ও বেচাকেনা চলছিল পুরোদমে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, সৌদি রাজকীয় বিমানবাহিনীর একটি এফ-১৫এসএ যুদ্ধবিমান শুক্রবার সকালে দক্ষিণ-পশ্চিম সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের কাছে কিং খালিদ বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। পরে বিমানটি আল-হাধারা বাজারে পরপর তিনটি হামলা চালিয়ে নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যায়। এসব হামলায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। এ ধরনের বর্বর অপরাধের জবাব দেয়া হবে এবং অপরাধীদের শাস্তি পেতে হবে।

Advertisement

ইয়েমেনের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

ইয়েমেনের আল-মাসিরা টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে হামলার ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। বাজারজুড়ে লাশ ও মানুষের দেহাবশেষ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। হামলার পর স্বজনদের খোঁজে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে শোক ও আতঙ্ক।

উল্লেখ্য, মাত্র চার দিন আগেও তায়িজ প্রদেশের আল-মিসরাখ জেলার আল-মাখাফ বাজারে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে আটজন নিহত এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। অর্থাৎ চার দিনের ব্যবধানে প্রদেশটির দু’টি বাজারে হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে, জনবহুল বাজারে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইয়েমেনের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, বাজার ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। জেনেভা কনভেনশনের প্রথম অতিরিক্ত প্রটোকলের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৮ নম্বর অনুচ্ছেদের কথাও উল্লেখ করেছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, বাজার ও দোকানপাটে হামলা ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা এবং তাদের অনাহারের দিকে ঠেলে দেয়ার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর সম্মিলিত শাস্তি চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

৩১ অক্টোবরের আল-হাধারা বাজারে হামলার জন্য সৌদি আরবকে সম্পূর্ণ দায়ী করে ইয়েমেনের মানবাধিকার মন্ত্রণালয়। একইসাথে বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার নিন্দা জানাতে এবং এ ধরনের ঘটনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইয়েমেনে নতুন করে উত্তেজনা শুরুর পেছনে রয়েছে গত জুলাইয়ে সৌদি আরবের সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বোমা হামলা। এর জবাবে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ নীতি ঘোষণা করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি জাহাজে নৌ অভিযান চালানোর দাবি করেছে। এসব অভিযানের ফলে সৌদি আরবের জ্বালানি রফতানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইয়েমেনি বাহিনী।

এছাড়া সৌদি আরবের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালানোর কথাও জানিয়েছে তারা। সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের উপকূলীয় সমভূমি এলাকায় দ্রুত অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব আল-মানদেব প্রণালীর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার দাবিও করেছে ইয়েমেনি বাহিনী।

২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে একটি সামরিক জোট গঠন করে ইয়েমেনে অভিযান শুরু করে। সানায় নিজেদের স্বার্থের অনুকূল সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা ছিল এ অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।

দীর্ঘ এই যুদ্ধে কয়েক লাখ ইয়েমেনি প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এত সামরিক অভিযান ও অবরোধের পরও ইয়েমেনে নিজেদের পছন্দের সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি সৌদি আরব।

সূত্র : পার্সটুডে