হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আগুন
হরমুজ প্রণালীতে একটি জাহাজে আগুন। সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী দু’টি ট্যাঙ্কারে আগুন লেগেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

Advertisement

এর এক দিন আগে হরমুজ প্রণালীতে আরো পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন লাগার দাবি করেছিল তেহরান।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার চেষ্টা করছে ইরান। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সাধারণত এই পানিপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

Advertisement

ইরানের এ পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পার করে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড গত মাসে জানিয়েছিল, গ্রীষ্মকাল থেকে হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ১৫০ কোটি ব্যারেল তেল রফতানিতে সহায়তা করেছে তারা। 

সম্প্রতি সংস্থাটি দাবি করেছে, ওই পানিপথ থেকে সব মাইন অপসারণ করা হয়েছে।

তবে শুক্রবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদন ছাড়াই হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের চেষ্টা করায় দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মাইনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর একটি ছিল হরমুজ প্রণালীর পূর্বদিকে এবং অন্যটি প্রণালীর ভেতরে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী ওই দু’টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার তাদের নৌচলাচল ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দিয়েছিল। আগ্রাসী ও সন্ত্রাসী মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় তারা হরমুজ প্রণালী থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। এ সময় মাইনের সাথে সংঘর্ষের পর জাহাজ দু’টিতে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো চলাচল বন্ধ করতে বাধ্য হয়।’

এর আগে বৃহস্পতিবার ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, হরমুজ প্রণালীতে পাঁচটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও একটি টাগবোটে একই ধরনের ঘটনায় আগুন লেগেছে।

তবে এসব ঘটনার কোনোটি নিয়েই এখন পর্যন্ত সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা নৌচলাচল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

সূত্র : বাসস