ইরান, কাতার, শান্তি আলোচনা
শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবনে তেহরান গেছে কাতারের প্রতিনিধিদল। সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার মধ্যে ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করতে শুক্রবার কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

Advertisement

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার খবরের বরাতে এএফপি জানায়, কাতারের প্রধানমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সাথে ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ... এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি’ নিয়ে আলোচনা করতে এসেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের আট মাস ধরে চলা যুদ্ধে আবারো সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা বাড়তে থাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা তেহরান সফর করেছেন।

কাতারের প্রতিনিধিদলের এ সফরের এক দিন আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো একটি চিঠি পেয়েছে। চিঠিটি ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানিয়েছে, চিঠিতে শান্তিচুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তের পরিবর্তে সম্ভাব্য আলোচনার কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ জানায়, ভ্যান্স গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে একটি চিঠি পাঠিয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন। চিঠিটি রোববার জেনারেল মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টায় কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানা গেছে, রোববারও কাতারের একটি প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছিল।

মঙ্গলবার মস্কোয় এক বৈঠকের ফাঁকে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

এ সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও আলোচনার জন্য তেহরান সফর করেছেন। গত আগস্টে মক্কায় একটি প্রতিরক্ষা জোটে স্বাক্ষর করেছিল দেশ তিনটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এ যুদ্ধ শুরু হয়। ওই হামলায় তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং দেশটির সামরিক বাহিনীর কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হন।

এর জবাবে ইসরাইল এবং অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় ইরান। একইসাথে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।

বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুদ্ধের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার লক্ষ্যে তেহরান দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সাথে একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে। এর ফলে তেহরানের তেল রফতানি ও বাণিজ্য পরিচালনার সক্ষমতা আরো সীমিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনকে সাতটি শর্ত পূরণের দাবি জানিয়ে আসছে তেহরান। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধবিরতি, বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার।

সূত্র : এএফপি/বাসস