
ইসরাইলে শুক্রবার শেষরাতে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)।
ভুলত্রুটি বা আপত্তি-সংক্রান্ত সব অনুসন্ধানের পর্যালোচনার পর আগামী বুধবারে পূর্ণাঙ্গ সরকারি ফলাফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের কাছে জমা দেয়ার কথা রয়েছে। এরপর হারজোগ প্রতিটি দলের শীর্ষ নেতাদের সাথে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করবেন এবং পরে সরকার গঠনে কাকে আহ্বান জানানো উচিত সে বিষয়ে তাদের সুপারিশ শুনবেন।
এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৭,১৬,৬৬৫ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, যা মোট যোগ্য ভোটারের ৭৭.৯ শতাংশ—এবং এটি গত কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী দলভিত্তিক আসন বন্টন :
লিকুদ : ২৭টি
য়াশার : ২১টি
বিয়াহাদ : ১২টি
জয়েন্ট লিস্ট : ১১টি
দ্য ডেমোক্র্যাটস : ৮টি
রাম : ৮টি
ইসরাইল বেইতেনু : ৭টি
ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম : ৭টি
ওৎজমা ইহুদিত : ৭টি
শাস: ৬টি
রিলিজিয়াস জায়নিজম: ৬টি
অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় ৩.২৫ শতাংশ থ্রেশহোল্ড পূরণ করতে না পেরে বাতিল হয়ে গেছে বেশ কিছু ছোট দল। এর মধ্যে ইয়োয়াজ হেনডেলের 'রিজার্ভিস্টস-ইকোনমিক পার্টি' পেয়েছে ২.৬৩ শতাংশ ভোট এবং ওফের উইন্টারের 'পিপলস অফ ইসরাইল' পেয়েছে মাত্র ১.৭ শতাংশ ভোট। উগ্র-অর্থোডক্স সম্প্রদায়ের বিকল্প প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা 'হ্যারোদি পাবলিক' পেয়েছে মাত্র ০.২% ভোট।
এই ফলাফলের ভিত্তিতে নেতানিয়াহু-পন্থী জোট মোট ৫৩টি আসন এবং নেতানিয়াহু-বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেয়েছে। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, নেতানিয়াহুর বর্তমান বিদায়ী সরকারের কাছে ৬৮টি আসন ছিল, ফলে এই ফলাফল তাদের জন্য একটি বড় বিপর্যয়।
অপরদিকে, ফিলিস্তিনি আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল—'জয়েন্ট লিস্ট' এবং 'রাম'—যৌথভাবে ১৯টি আসন লাভ করেছে; যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড এবং বিদায়ী নেসেটের (১০টি) তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। 'ডেমোক্র্যাটস' ছাড়া বাকি সব জিয়নবাদী দল যদি এদের সাথে সহযোগিতার পথ বন্ধ না করত, তবে আরব দলগুলোর এই বিশাল আসন অনায়াসেই নেতানিয়াহু-বিরোধী শিবিরকে শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছে দিতে পারত।
ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ:
শুক্রবার সকালে এক বিবৃতিতে নির্বাচন কমিশন তাদের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডিন লিভনের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাতারভিত্তিক প্রভাব বিস্তার ও জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। লিভন জানান, "দিনভর প্রকাশিত এসব খবরের কোনো ভিত্তি নেই এবং চলমান অনুসন্ধান বা তদন্ত চূড়ান্ত ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।"
রাজনৈতিক অচলাবস্থার শঙ্কা :
নতুন কেসেট আগামী ১০ নভেম্বর শপথ নিতে যাচ্ছে। তবে সরকার গঠনে কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতার কাছাকাছি না থাকায় এই প্রক্রিয়া বেশ জটিল হতে পারে এবং দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকতে পারে।
প্রেসিডেন্ট হারজোগ ইতিমধ্যে সব রাজনৈতিক দলকে বারবার আরেকটি নির্বাচনের পথ এড়াতে নমনীয় মনোভাব দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'নতুন করে আরেক দফা নির্বাচন এড়াতে আমাদের সম্ভাব্য সব কিছু করা দরকার। আমি আশা করব যারাই আমার কাছে আসবে, তারা খোলামনে আলোচনা করতেই আসবে।'
তবে পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং গাদি আইজেনকোট—উভয়েই দৃঢ়তার সাথে দাবি করেছেন যে তাঁরাই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছেন।
সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








