
ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ শিগগিরই শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সাথে তিনি বলেছেন, তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। এদিকে আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকে ইরানের সাথে যুদ্ধের পরবর্তী পদক্ষেপ ও যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আল জাজিরা এবং তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনদোলু বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জানায়, বুধবার নর্থ ক্যারোলাইনায় পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ইরানের সাথে যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, ‘আশা করছি, আমরা যুদ্ধের শেষ প্রান্তের দিকে এগোচ্ছি। ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে এগোয়, তা আমরা দেখব।’
এর আগে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতাদের সাথে বৈঠকে বসতে পারেন ট্রাম্প। ইরানের সাথে যুদ্ধের পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলোচনা করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরটি প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে যুদ্ধ-পরবর্তী কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা গুরুত্ব পাবে। ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরের পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি বিস্তৃত পরিকল্পনা তৈরি করছে। প্রশাসনের এই পরিকল্পনাকে ‘ডে-অ্যাফটার’ বা যুদ্ধের পরের দিনের পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হতে পারে।
বৈঠকে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর নেতারা অথবা পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব দেশ হলো সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান। তবে বৈঠকের পরিধি আরো বাড়তে পারে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, অন্যান্য আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদেরও এতে যুক্ত করা হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবারই বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য প্রাথমিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এরই মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নিউইয়র্কে ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোনো বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হয়নি।
ইরানের সাথে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে ট্রাম্পের আশাবাদ এবং উপসাগরীয় নেতাদের সাথে তার সম্ভাব্য বৈঠক এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তার প্রশাসন যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে।







