
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও মেয়রসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মোট ১৮টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বুধবার দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান কমিশনের সচিব মো: সাইদুর রহমান খান।
মামলাগুলোর মধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম আলতাফ জর্জের বিরুদ্ধে এক কোটি এক লাখ ৬৪ হাজার তিন টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৬৪ লাখ ৪৮ হাজার ৪৭৮ টাকা কম দেখিয়ে তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রউফের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকা এবং তার স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে এক কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুই কোটি ৪৬ লাখ ৯২ হাজার ৫৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে এবং তার ভাই দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে এক কোটি ৭৯ লাখ ৩৫ হাজার ২৬৮ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ৩৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক মামলা হয়েছে।
হবিগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো: আবু জাহিরের বিরুদ্ধে নয় কোটি ৩২ লাখ ৭১ হাজার ৫৫৯ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন, সাত কোটি ২৭ লাখ ৩৬ হাজার ৬২৭ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন এবং ব্যাংক হিসাবে ২২ কোটি ৫৬ লাখ তিন হাজার ৭৫৬ টাকা স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী রহম উল্লাহর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার ৫২১ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের বিরুদ্ধে ৭৯ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪২ টাকা এবং তার স্ত্রী চৌধুরী রুবিনা ইয়াছমিন লুবনার বিরুদ্ধে এক কোটি ৮২ লাখ ৫১ হাজার ৫৮৯ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা করা হয়েছে।
নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে এক কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তার স্ত্রী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে এক কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকা এবং ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরো দু’টি মামলা করা হয়েছে।
যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে ২৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ২২১ টাকা এবং তার স্ত্রী শামীমা শারমিনের বিরুদ্ধে ছয় কোটি ৭২ লাখ নয় হাজার ৪৫৩ টাকা জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দু’টি মামলা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক ও নিউজ টোয়েন্টিফোরের সিইও নঈম নিজামের বিরুদ্ধে দুই কোটি আট লাখ ৫০ হাজার ১৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ ৬১ হাজার ৯১৩ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ১৮০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ২১ কোটি নয় লাখ ৩৪ হাজার ৮১৪ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
খুলনা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে দুই কোটি ৫১ লাখ ৭৩ হাজার ২০০ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে ৪৯ লাখ ৮৩ হাজার ১২০ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। একই সাথে তার স্ত্রী জাকিয়া মাহাবুবের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬১ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় এসব মামলা করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস








