আত্মহত্যা, রিমান্ড, কারাগার
এমপি গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তার ইন্টারনেট

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এক দিনের রিমান্ড শেষে আজ মঙ্গলবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া গাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন একই আদালত।

গত ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টোদিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।

এ ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত জুনে মরিয়মের সাথে জি এম নজরুল ইসলামের ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী বিয়ে হয়। নজরুল শেরেবাংলা নগর থানা এলাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ সংলগ্ন ন্যাম ভবনের (ভবন নম্বর ৫, ফ্ল্যাট ২০৩) বাসায় থাকতেন।

একই বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও থাকতেন। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও মাকছুদা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে এই নির্যাতনের কথা জানিয়েছিলেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, ২০ সেপ্টেম্বর (রোববার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম ফোন করে মরিয়মের বাবাকে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। পরে তিনি নিহতের খালা সুফিয়াকে সাথে নিয়ে ওই বাসায় গিয়ে লোকজনের ভিড় দেখতে পান। কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল এবং জানালা দিয়ে ফ্যানের সাথে মরিয়মকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলতে দেখা যায়।

নিহতের বিছানা থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।