জামায়াত
বক্তব্য রাখছেন মাওলানা আব্দুল হালিম নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেছেন, কৃষকের সন্তানেরাই একদিন দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকদের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি কৃষিপ্রধান এলাকায় সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত দিনব্যাপী জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীল প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শহর পর্যন্ত কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকদের সংগঠিত করে তাদের সমস্যা, সঙ্কট ও সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করতে হবে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, রূপসা থেকে পাথুরিয়া—প্রতিটি কৃষি এলাকায় কৃষক কমিটির শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, কৃষক পরিবারের সন্তানরাই একদিন দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমার বাবা একজন কৃষক ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমানও একজন কৃষকের সন্তান। সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীও কৃষক পরিবারের সন্তান ছিলেন। পঞ্চম শ্রেণি পাস একজন কৃষকও জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। নেতৃত্বের জন্য পারিবারিক পরিচয় নয়, যোগ্যতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ইসলামে বৈরাগ্যবাদের কোনো স্থান নেই। নামাজ-রোজার পাশাপাশি জীবিকা অর্জন, পরিবারকে সময় দেয়া এবং জমিতে ফসল উৎপাদন করাও ইবাদতের অংশ। যারা পরিশ্রম করে খাদ্য উৎপাদন করেন, তাদের উপার্জন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ।

দেশের পরিবর্তনে সাহসী, ঈমানদার ও ত্যাগী মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে কৃষক, কৃষিজীবী ও কৃষি খাতের শ্রমিকদের সংগঠনকে ভূমিকা রাখতে হবে।

কর্মশালায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি উপেক্ষা করে কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকরা খাদ্য উৎপাদনে অবদান রেখে চলেছেন। দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও তারা যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

তিনি কৃষি শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায্য মজুরি ও কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসাথে কৃষকদের সময়মতো সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেন। কৃষিপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত খাদ্য দেশের খাদ্যনিরাপত্তার মূল ভিত্তি। কৃষক ও কৃষিজীবী শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিটি কৃষি এলাকায় ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লা পর্যায়ে দক্ষ সংগঠন গড়ে তুলে কার্যক্রম বিস্তৃত করতে হবে। কোনো কৃষক পরিবারকে সংগঠনের কার্যক্রম ও জনসেবার বাইরে রাখা যাবে না।

বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহজাহানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী, কৃষিবিদ গ্রুপ শিল্প পরিবারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাস্টার শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষিজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। কর্মশালায় ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের পরিচালকসহ জেলা ও মহানগরীর দায়িত্বশীলরা উপস্থিত ছিলেন।