মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলা। সংগৃহীত

স্কুল ও প্রসূতি ক্লিনিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় এক নবজাতক শিশুসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন।

Advertisement

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) একটি জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী, একজন ত্রাণকর্মী ও মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো এ তথ্য জানিয়েছে।

দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে সামরিক-সমর্থিত মিয়ানমার সরকার। এরই মধ্যে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে হারানো অঞ্চল পুনরুদ্ধারে সামরিক অভিযান জোরদার করেছে তারা। এসব প্রতিরোধ গোষ্ঠী বর্তমানে দেশটির বিশাল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সামরিক-সমর্থিত সরকারের একজন মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে চাননি। তবে এর আগে সরকার দাবি করেছে, তারা ‘সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে বৈধ অভিযান পরিচালনা করছে।

রোববার (১ নভেম্বর) পশ্চিম রাখাইন রাজ্যের চারটি টাউনশিপে বিমান হামলা চালানো হয়। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে তীব্র লড়াই চলছে। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী আরাকান আর্মি বর্তমানে রাজধানী সিত্তের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র ও একজন ত্রাণকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, কিয়াকতাও এলাকার একটি সেতু, কিয়াকফিউ ও পাউকতাও-এর বিভিন্ন স্থান ও আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা ম্রাউক-ইউয়ের একটি অস্থায়ী ক্লিনিক ও প্রসূতি ওয়ার্ডে এসব হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন।

ম্রাউক-ইউতে কর্মরত ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন অং জানান, হামলায় এক সপ্তাহ বয়সী একটি শিশুকন্যা নিহত হয়েছে। শিশুটির যমজ বোন বেঁচে আছে। পরদিনই তাদের বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিস্ফোরণে ভবনটি ধসে পড়লে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে শিশুটি মারা যায়।

তিনি আরো জানান, ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরো চারজন এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

এর আগের দিন থাই সীমান্তের কাছে কায়াহ রাজ্যের লোইকাও শহরের একটি স্কুলে বিমান হামলা চালানো হয়।

মানবাধিকার সংস্থা কারেনি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ সোমবার জানিয়েছে, ক্লাস চলাকালে চালানো ওই হামলায় তিন শিক্ষার্থী নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছে।

কারেনি হিউম্যান রাইটস গ্রুপ ও কারেনি অন্তর্বর্তী নির্বাহী কাউন্সিলের সচিব বানিয়ার খুন অংয়ের তথ্য অনুযায়ী, একটি ওয়াই-১২ পরিবহন বিমান ও একটি যুদ্ধবিমান লোইকাওয়ের ওই স্কুলে ২০টিরও বেশি বোমা ফেলেছে। তাদের দাবি, ওই এলাকায় কোনো সামরিক তৎপরতা বা সঙ্ঘাত ছিল না।

বানিয়ার খুন অং বলেন, যেখানে ছোট ছোট শিশুরা পড়াশোনা করছে, এমন একটি স্কুলকে লক্ষ্যবস্তু করা এবং সেখানে বারবার বোমা হামলা চালানো একটি অমানবিক কাজ, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল।

এদিকে মিয়ানমারের সঙ্ঘাত সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ডের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশটির যুদ্ধবিমানগুলো সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে। সঙ্ঘাতের কারণে থাইল্যান্ডের বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একজন আহত হয়েছেন।

থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জানান, তার সরকার মিয়ানমারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। যাতে দেশটির চলমান সঙ্ঘাতের প্রভাব থাইল্যান্ডের ওপর না পড়ে।

সূত্র : রয়টার্স