
বিশ্বজুড়ে আশঙ্কাজনক হারে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস ও প্রাকৃতিক ইকোসিস্টেমের ক্ষতি রোধে উন্নত দেশগুলোর পক্ষ থেকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিতকরণের জোর আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস।
কলম্বিয়ার ক্যালিতে অনুষ্ঠিত জাতিসঙ্ঘের ঐতিহাসিক জীববৈচিত্র্য সম্মেলন (কপ-১৬)-এর অগ্রগতি পর্যালোচনাকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের এই অভূতপূর্ব ক্ষয়ক্ষতি মানবজাতির অস্তিত্বকেই সঙ্কটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই মহামূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কেবল কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এই মুহূর্তেই উন্নত দেশগুলোর তরফ থেকে দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত আর্থিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
জাতিসঙ্ঘের প্রতিবেদনে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জীববৈচিত্র্য রক্ষা বা কুমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভারসিটি ফ্রেমওয়ার্ক (জেবিএফ) বাস্তবায়নেও অর্থায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য তহবিল গঠনের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, উন্নত দেশগুলোর গড়িমসির কারণে তার সরবরাহ এখনো অত্যন্ত ধীরগতির।
মহাসচিব গুতেরেস ক্ষতিগ্রস্ত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ইকোসিস্টেম পুনরুদ্ধার এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এই তহবিলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অর্থায়নের এই বিশাল ঘাটতি পূরণ করা না গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির ক্ষতি রোধ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।
তহবিল সরবরাহে উন্নত দেশের ধীরগতি
২০২২ সালের চুক্তির আলোকেই ২০২৫ সালের মধ্যে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিশ্চিত করার কথা ছিল।
তবে ক্যালি সম্মেলনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, প্রতিশ্রুত এই আন্তর্জাতিক সরকারি অর্থায়নের একটি বড় অংশই এখনো অবমুক্ত করা হয়নি।
২০৩০ সালের বিশাল বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা
২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় সরকারি ও বেসরকারি উৎস মিলিয়ে প্রতি বছর কমপক্ষে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল গঠনের লক্ষ্য রয়েছে।
মহাসচিব গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, এখনই উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের গতি না বাড়ালে এই লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উন্নয়নশীল দেশের ওপর চাপ
বাংলাদেশ, কলম্বিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো চরম জীববৈচিত্র্য ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক অনুদান না পাওয়ায় তাদের নিজস্ব বনাঞ্চল ও জলাভূমি রক্ষা এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জাতীয় পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে পারছে না।
জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্যের আন্তঃসম্পর্ক
মহাসচিব গুতেরেস তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি—এই দু’টি সঙ্কট একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আগে ক্যালির এই জীববৈচিত্র্য সম্মেলনে উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের ক্ষেত্রে কতটা আন্তরিকতা দেখায়, তার ওপরই বহুপক্ষীয় কূটনীতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








