তুরস্ক-পাকিস্তানকে কঠোর বার্তা হাউছিদের, মারিবে নিহত ৮০

আরাব নিউজ, এনডিটিভি ও আলজাজিরা  
সৌদি আরবের সাথে চলমান সঙ্ঘাতের জেরে পাকিস্তান ও তুরস্ক সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপর মারাত্মক আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হাউছি গোষ্ঠী। ইয়েমেন সঙ্ঘাত অথবা রিয়াদের সমর্থনে দেশ দু’টি সরাসরি যুক্ত হলে তাদেরকে চরম মাশুল গুনতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। 
ইরাকি টেলিভিশন চ্যানেল ‘অ্যানাদার রিডিং’-কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে হাউছিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও ধামার প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এই কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, পাকিস্তান বা তুরস্ক যদি এতে জড়ায় তবে আল্লাহর নামে কসম কেটে বলছি, তাদের ওপর তীব্র আঘাত হানা হবে। তবে এই বার্তা মূলত ওই দুই দেশের সরকারের উদ্দেশে দেয়া হয়েছে, কারণ সেসব দেশের সাধারণ মানুষের মনে ইয়েমেনিদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি রয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের ওপর হাউছিদের হামলা বৃদ্ধির পর রিয়াদ, ইসলামাবাদ ও আঙ্কারার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে। চলতি বছরের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মূল শর্তানুযায়ী, মিত্র যেকোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা বাকিদের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই প্রেক্ষাপটেই হাউছিদের পক্ষ থেকে এমন হুঁশিয়ারি এলো। 
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এরই মধ্যে সৌদি আরবের অখণ্ডতা হুমকিতে পড়ার কথা জানিয়ে রিয়াদের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, প্রয়োজনে সামরিক সহযোগিতা বা কারিগরি সহায়তার বিষয়ে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করা হবে। অন্য দিকে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এবং সামরিক বাহিনীর আন্তঃসেবা জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী একসুরে জানিয়েছেন, পবিত্র হারামাইন শরিফাইনের সুরক্ষায় পাকিস্তান চুক্তি বা সীমানার পরোয়া না করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে প্রস্তুত।  
মারিবে তীব্র সংঘর্ষে ৮০ হাউছি যোদ্ধা নিহত 
ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারিব নগরীর উপকণ্ঠে সরকারি বাহিনীর সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মুখে পড়েছে হাউছিরা। সেনাবাহিনীর মিডিয়া প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার লড়াইয়ে ৮০ জনেরও বেশি হাউছি যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন এবং তাদের ৯টি সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিবের বিভিন্ন সম্মুখসারিতে থাকা হাউছিদের সামরিক সরঞ্জাম ও সুরক্ষিত আস্তানা লক্ষ্য করে দফায় দফায় আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। তীব্র প্রতিরোধের মুখে হাউছিরা বিভিন্ন অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং সেনাবাহিনী পার্শ্ববর্তী কৌশলগত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করে। এ ছাড়া সম্প্রতি সানা ও হোদেইদাসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০ জন হাউছি যোদ্ধার দাফন সম্পন্ন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন। তেল ও গ্যাসক্ষেত্র সমৃদ্ধ মারিব শহরে যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত ২০ লাখের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। বিশাল জনসংখ্যা থাকা এই শহরটি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে হাউছিরা অভিযান চালালেও তা প্রতিহত করে আসছে দেশটির সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সঙ্ঘাত এড়াতে চায় হাউছিরা : ট্রাম্প 
এ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সৌদি ভূখণ্ডে প্রতিনিয়ত হামলা চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কোনো যুদ্ধ বা সামরিক সঙ্ঘাত জড়াতে আগ্রহী নয় হাউছি গোষ্ঠী। সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন হাউছিদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং গোষ্ঠীটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে না যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।