
জাপান সফর শেষে রোববার (৪ অক্টোবর) দেশে ফিরেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিতের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। সাত দিনের এ সফরে (২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর) বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জাপানের স্বাস্থ্যসেবার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সাথে বৈঠক, কারিগরি আলোচনা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রীর সাথে সফরে ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমাম আলী রেজা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, নরসিংদী সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন মো. বুলবুল কবীর এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. সারওয়ার সালাম।
সমন্বিত অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে এ সফরের আয়োজন করা হয়। সফরকালে জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের সাথে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, স্বাস্থ্য অর্থায়ন এবং চিকিৎসা প্রযুক্তি নিয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
সফরের অন্যতম লক্ষ্য ছিল জাপানের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতকে আরো কার্যকর ও শক্তিশালী করার সম্ভাবনা খুঁজে দেখা।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) সদর দপ্তরে প্রতিনিধি দলকে দেশটির স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। পরে তারা স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রযুক্তি খাতের বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে ছিল টেরুমো মেডিক্যাল প্রানেক্স, ফুজিফিল্ম, তেইকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদ, তোকুশুকাই হাসপাতাল, রিভারফিল্ড রোবোটিক সার্জারি এবং একটি বেসরকারি ক্লিনিক।
পরিদর্শনকালে চিকিৎসাপদ্ধতি, রোগীর সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা, রোগ নির্ণয়ের প্রযুক্তি এবং আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সাথে মতবিনিময় করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
এ ছাড়া সফরকালে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে আলোচনা এবং নিপ্পন কোয়ে ও কেআরসির প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেন তারা। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ও জাপানে বাংলাদেশ দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত-বিষয়ক ব্যবসায়িক সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ ও জাপানের সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
জাপানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, দেশটির হাসপাতালগুলোর প্রতিটি স্তরের দায়িত্ব ও ভূমিকা সুস্পষ্ট। রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে এক স্তর থেকে অন্য স্তরের হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সে অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়।
জাপানের স্বাস্থ্যকর্মীদের পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও সহমর্মিতার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রযুক্তি কেনা যায়, কিন্তু মানসম্মত সেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হয়। এই শিক্ষাই আমরা দেশে নিয়ে এসেছি, যা আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরো জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








