
বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশন্স ট্রফিতে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের কাছে পাত্তাই পায়নি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে বড় জয় পেলেও আজ ভারতের কাছে ৪৭-১৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরেছে স্বাগতিকরা। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বড় হারের কারণ হিসেবে দুই দলের টুর্নামেন্ট খেলার অভিজ্ঞতার বিস্তর পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ দলের গোলরক্ষক সুমাইয়া বানু।
ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ান হ্যান্ডবলে ভারত বরাবরই শক্তিশালী দল সেটা আমরা সবাই জানি, তবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল যে আমরা ভালো খেলব।’
তিনি আরো জানান, ‘আমাদের কোচ বলছেন গোলের ব্যবধান যাই হোক না কেন আমরা ভালো খেলব এটাই হচ্ছে আমাদের প্রথমত ইচ্ছা।’
ভারতের সাথে বাংলাদেশের মূল পার্থক্য কোথায়, এমন প্রশ্নের জবাবে সুমাইয়া বলেন, ‘তারা অনেক বেশি টুর্নামেন্ট খেলে থাকে, আমাদের এত টুর্নামেন্ট হয় না বাংলাদেশে। আর তারা তো অনেক দ্রুতগতির আপনারা দেখছেন... তারা সব দিক দিয়ে আমাদের থেকে এগিয়ে ছিল।’ পাশাপাশি র্যাংকিংয়ের বিশাল পার্থক্য তুলে ধরে তিনি জানান, ‘তারা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে, তারা ১০ নাম্বার র্যাঙ্কিংয়ে আছে। আমরা ৪৮ নাম্বার।’
মাঠে বারবার মিস পাস হওয়া বা হাত থেকে বল ফসকে যাওয়ার কারণ হিসেবে মানসিক প্রস্তুতির ঘাটতি মানতে নারাজ সুমাইয়া। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘না না একদমই না, আমাদের কোচরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোটিভেশন দিয়ে আসছেন যে গোলের পার্থক্য কোনো বিষয় না, তোমাদেরকে যেটা শিখিয়েছি ম্যাচে সেটাই করার চেষ্টা করবে।’
ডিফেন্সের দুর্বলতা নিয়ে সতীর্থদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন এই গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘আমাদের মেয়েরা অনেক চেষ্টা করছে ডিফেন্স করার, মাঝে মাঝে সেটা অনেক ভালো হয়েছে আবার কখনো ঠিকমত হয়নি। কারণ ভারত শক্তিমত্তার দিক থেকে আমাদের তুলনায় অনেক এগিয়ে।’
এই টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের প্রস্তুতির কোনো ঘাটতি ছিল না জানিয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘আমাদের প্রিপারেশন ভালো ছিল, তবে তারা অনেক ভালো টিম... তারা অনেক নিয়মিত অনুশীলনের উপওে থাকে।’
দীর্ঘ বিরতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের টুর্নামেন্ট খুবই কম হয়। আমরা ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলেছি- এসএ গেমস। তারপর ২০২৩ সালে ইসলামিক সলিডারিটি... তারপর আর কোনো সিনিয়র লেভেলে কোনো খেলা হয়নি। এখানেই তো বড় একটা পার্থক্য হয়ে গেছে।’
তবে পর্যাপ্ত সুযোগ পেলে ভালো করার আশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে আমাদের অনেক গ্যাপ, তবে আমরা যদি ধারাবাহিক ভাবে খেলার সুযোগ পাই অবশ্যই ভালো করবো ইনশাআল্লাহ।’
আগামীকাল টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ নিয়ে সুমাইয়া জানান, ‘কালকে মালদ্বীপের সাথে ম্যাচ, আমরা ভালো করবো, আমাদের কোচ আমাদের যে নির্দেশনা দিবে সে অনুযায়ী খেলবো ইনশাআল্লাহ।’
মালদ্বীপকে হারালে ফাইনালে আবারো ভারতের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে। টুর্নামেন্ট জয়ের লক্ষ্যের বিষয়ে এই গোলরক্ষক বলেন, ‘আজকে যা হয়ে গেছে সেটা নিয়ে আর চিন্তা করবো না। কালকের ম্যাচটা নিয়ে আমরা ভাববো, কালকে যদি আমরা জিততে পারি অবশ্যই ফাইনাল খেলব।’ বাসস
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








