
কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন টম ক্রুজ। নতুন চলচ্চিত্র ‘ডিগার’-এ জলবায়ু পরিবর্তনের রাজনীতি ও করপোরেট লোভের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে তাকে পরিবেশগত সঙ্কটে পড়া এক বয়স্ক ও বিপর্যস্ত শিল্পপতির চরিত্রে দেখা যাবে।
১৩ কোটি ডলার বাজেট এবং ব্যাপক প্রচার-প্রচারণায় নির্মিত মেক্সিকোর একাধিক অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র নির্মাতা আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতুর ডার্ক কমেডিটি বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) থেকে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে।
চলচ্চিত্রটিতে নিজের চিরাচরিত অ্যাকশন চরিত্র থেকে সরে এসে টম ক্রুজকে একজন খনি ও তেল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রায় অচেনা রূপে দেখা যাবে। মূল চিত্রনাট্যে তাকে নিজের বিবেক এবং তার সম্পদ ও ব্যবসার সমালোচকদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখা যায়।
চলতি মাসের শুরুতে জিকিউ ম্যাগাজিনকে ৬৪ বছর বয়সী ক্রুজ বলেন, ‘এটি আমার সব দক্ষতার চূড়ান্ত প্রয়োগ। এটাই আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্র।’
২২ সেপ্টেম্বর লন্ডনে চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ারের পর অনলাইনে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া মিশ্র ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, অতিনাটকীয় অভিনয় এবং বিলিয়নেয়ার শ্রেণি ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রচারণাকে ইনারিতুর তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ দর্শকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে।
মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৪টায় চলচ্চিত্রটির সমালোচনামূলক পর্যালোচনার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার কথা ছিল।
‘গুরুতর’ চরিত্র
চলতি শতাব্দীর বেশিভাগ সময় ক্রুজ অ্যাকশনধর্মী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে আট পর্বের ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজে ইথান হান্ট চরিত্রে, ‘টপ গান : ম্যাভেরিক’ এবং ‘জ্যাক রিচার’ চলচ্চিত্রগুলোতে তাকে দেখা গেছে।
চলতি বছরের শেষ দিকে ‘ডেইজ অব থান্ডার’-এর পরবর্তী পর্বেও অভিনয় করবেন তিনি।
ক্রুজের অভিনয়জীবন নিয়ে ব্যাপকভাবে লেখালেখি করা চলচ্চিত্র সমালোচক ও লেখক এ এস হামরাহর মতে, তার অভিনয়দক্ষতার পূর্ণ পরিসর কাজে লাগানো সর্বশেষ চরিত্রগুলোর সময়কাল ছিল ১৯৯০-এর দশক।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, টম ক্রুজ তার অভিনয়জীবনের দিকে ফিরে তাকাচ্ছেন এবং উপলব্ধি করছেন যে তার বয়স বাড়ছে। একদিকে তাকে এখনো ‘টপ গান ২’ ও ‘ডেইজ অব থান্ডার ২’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে ১৯৯৯ সালের পর তিনি আসলে কোনো গুরুতর চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি।’
১৯৯৯ সালেই মুক্তি পায় পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ম্যাগনোলিয়া’ এবং স্ট্যানলি কুবরিকের ‘আইজ ওয়াইড শাট’, যেখানে ক্রুজ তার সাবেক স্ত্রী নিকোল কিডম্যানের বিপরীতে অভিনয় করেন।
হামরাহ বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি এখন হয়তো এমন কিছু মানুষের সাথে কাজ করতে চাইছেন, যাদের সাথে এর আগে কাজ করা হয়নি। আর ইন্যারিতু সম্ভবত তাদের একজন।’
তিনি ‘আমোরেস পেরোস’ ও ‘দ্য রেভেন্যান্ট’-এর প্রশংসিত পরিচালক ইন্যারিতুর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন।
পুরস্কারের দৌড়ে কি ‘ডিগার’?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সিনেমা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বক্স অফিস থিওরির প্রতিষ্ঠাতা শন রবিনস এএফপিকে বলেন, হলিউডে কয়েক দশকের ক্যারিয়ার থেকে বোঝা যায়, ক্রুজ মাঝে মাঝে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির বাইরে যেতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, ‘তরুণ দর্শকরা তাকে ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট পারফর্মার ও অভিনেতা হিসেবে চিনতে পারে। কিন্তু তিনি সবসময়ই প্রচলিত গণ্ডির বাইরে যেতে প্রস্তুত।’
‘ভ্যানিলা স্কাই’ (২০০১) ও ‘জেরি ম্যাগুয়ার’ (১৯৯৬)-এর মতো চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের কথা উল্লেখ করে রবিনস বলেন, ‘ডিগারকে টম ক্রুজের প্রচলিত ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের সাথে একই শ্রেণিতে রাখা উচিত নয়। এটি সম্পূর্ণ আলাদা ধরনের একটি কাজ।’
‘ডিগার’-এর রাজনৈতিক বার্তাগুলোর সাথে ক্রুজ ব্যক্তিগতভাবে কতটা একমত, সেটিও একটি আগ্রহের বিষয়। চলচ্চিত্রটিতে টেকসই নয় এমন জীবনযাপন, ভোক্তাদের নিজেদের নৈতিকতা প্রদর্শনের প্রবণতা এবং ভণ্ড রাজনীতিকদের মতো বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
‘লাস্ট উইক ইন অ্যান্ড টাইমস সিনেমা’ বইয়ের লেখক এবং এন+১ ম্যাগাজিনের সমালোচক হামরাহ এএফপিকে বলেন, ‘আমার মনে হয়, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর মতো তিনিও জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন।’
‘ডিগার’ কি ক্রুজকে বহু আকাঙ্ক্ষিত সেরা অভিনেতার অস্কার জয়ের সুযোগ করে দিতে পারে? রবিনস বলেন, ‘এটি পুরস্কার মৌসুমের আলোচনায় জায়গা করে নিতে পারে।’
সূত্র : বাসস
_GDN_970x90px_English.gif&w=2048&q=75)








