
রাজধানী ঢাকায় গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা ভয়াবহ। সকালে ঘর থেকে বের হয়ে অফিসে পৌঁছা চাকরিজীবীদের জন্য নিত্যসংগ্রাম। দেখা যায় যত্রতত্র বাস দাঁড়িয়ে থাকে, আবার যাত্রী ধরার উন্মাদ প্রতিযোগিতায় নামে। তৈরি হয় যানজট। এতে কর্মঘণ্টার বড় একটি অংশ পথেই নষ্ট হয়ে যায়। একরকম ধরেই নেয়া হয়েছিল যে, এই সঙ্কটের সমাধান কখনো হবে না। আশার বিষয় এবার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ছয়টি সাধারণ ও একটি চক্রাকার মিলিয়ে সাত রুটে কোম্পানিভিত্তিক বাস চলাচলের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেছে। এমন একটি উদ্যোগের প্রতীক্ষায় ছিল নগরবাসী।
পর্যায়ক্রমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে ঢাকার ৩২ রুটে। নতুন ব্যবস্থায় প্রতি রুটে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির বাস চলবে। বাসের ফিটনেস, চালকদের আচরণ, সড়কে শৃঙ্খলা রাখা এবং পরিবহন আইন মেনে চলার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর। এর মাধ্যমে বাস পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।
যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে নির্দিষ্ট স্টপেজ বানানো ও পুরনো স্টপেজগুলো সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে এসব স্টপেজের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে সেখানে ছাউনি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হবে। এ ছাড়া বাসে কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে বাসের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের আশা করা হচ্ছে।
জরাজীর্ণ বাসগুলোর যান্ত্রিক সমস্যা মেরামত করা এবং নতুনভাবে রঙ করার জন্য দুই মাস সময় দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত না করলে ওই বাস সড়কে চলাচল করতে পারবে না।
জাতিসঙ্ঘের তথ্য বলছে, এই মেগাসিটিতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও শ্রমঘণ্টা সাশ্রয়ের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। এতদিন ধরে মালিক ও শ্রমিকদের অনিয়ন্ত্রিত মনস্তত্ত্ব আর তদারকির অভাবে সড়কের শৃঙ্খলা বারবার ভেঙে পড়েছে। নতুন ব্যবস্থায় ফিটনেস, চালকের আচরণ এবং ট্রাফিক আইন মানার একক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর ন্যস্ত করায় জবাবদিহি বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মালিক ও শ্রমিকদের চালক-ভিত্তিক আয়ের মানসিকতা দূর করে বেতনভিত্তিক কাঠামোর আওতায় আনা হলে সড়কে দুর্ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা অনেক কমবে আশা করা যায়।
একটি ভালো পরিকল্পনা নেয়া হলে সেটি যেন ঠিকঠাকভাবে বাস্তবায়ন হয় এর জন্যও প্রয়োজন কঠোর নীতি। অতীতে দেখা গেছে, অনেক ভালো উদ্যোগ কাগজ-কলমে আটকে থাকতে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে এই পরিকল্পনায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগকে শুরু থেকেই কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা আনতে মালিক, শ্রমিক, পুলিশ ও নাগরিকদের প্রচেষ্টা প্রয়োজন। জবাবদিহি তৈরির এই উদ্যোগ যেন কোনো প্রভাবশালী মহলের অনৈতিক আয়ের মাধ্যম হয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এই পরিকল্পনা বাস্তব হলে মেগাসিটি ঢাকার যান চলাচলে শৃঙ্খলা আসবে আশা করা যায়।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








