সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্যে রাস্তা খুঁড়ে অবৈধভাবে নেয়া হচ্ছে গ্যাস সংযোগ। এমন একটি ছবিসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে সহযোগী একটি দৈনিকে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী লাল মিয়া সরকার সড়কের ঘটনা এটি। সেখানে প্রায় ২৫০ মিটার সড়ক খুঁড়ে তিন-চার ইঞ্চি নিচ দিয়ে টানা হচ্ছে আড়াই থেকে পৌনে তিন ইঞ্চি মাপের গ্যাস পাইপলাইন। অবৈধ লাইন টানার সময় সম্প্রতি দু’জন শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। গত মাসেও একই ওয়ার্ডের আরেকটি এলাকায় অবৈধ গ্যাস সংযোগের কাজে জড়িত ১১ শ্রমিককে গ্রেফতার করা হয়। 
কাজটি বেআইনি এবং বিপজ্জনক। কারিগরি জ্ঞান ছাড়া সাধারণ শ্রমিকদের দিয়ে রাস্তা কেটে স্থানীয়রা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ নিচ্ছেন। সিটি করপোরেশন ও তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অনুমতির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। এতে ভারী যানবাহনের চাপে গ্যাসপাইপ ফেটে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সংশ্লিষ্ট দৈনিকের প্রতিবেদনে অবৈধ গ্যাস সংযোগ স্থাপনের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাড়ির মালিকরা টাকা তুলে স্থানীয় নেতাদের হাতে তুলে দেন। নেতাদের মদদে শ্রমিক লাগিয়ে গ্যাস সংযোগ নেন। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অবৈধ সুবিধা নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। 
স্থানীয় এক নেতা বিষয়টি স্বীকারও করেন। তিনি বলেন, আমাদের এলাকায় দীর্ঘ তিন-চার বছর ধরে গ্যাসের সরবরাহ নেই বললে চলে। অথচ বছরের পর বছর আমরা গ্যাসের বিল দিচ্ছি। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনছি। এতে দুই দিকে টাকা খরচ হচ্ছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও ব্যবস্থা নেয়নি। বাধ্য হয়ে রাস্তা খুঁড়ে গ্যাস পাইপলাইন স্থাপন করছি। পাইপ ও লেবারের টাকা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে।
এটি স্পষ্ট, দৈনন্দিন জীবন সচল রাখার তাগিদে নিতান্ত অপারগ হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা অবৈধ কাজটি করছেন। সরকারি সংস্থা তিতাসের ব্যর্থতা এ জন্য দায়ী। তাই এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নৈতিক অবস্থান সরকারের থাকে কি না সেটি বিবেচ্য। 
পবিত্র ইসলাম ধর্মে চুরির দায়ে হাত কেটে নেয়ার বিধান আছে; কিন্তু ক্ষুধার্ত কোনো মানুষ খাবার চুরি করলে বিধানটি তার ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য নয়। তাই সড়ক কেটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়া বন্ধে সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের গ্রেফতারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তারা নিছক পেটের দায়ে কাজটি করছেন। কিন্তু যাদের পকেটে নগদ গুঁজে দিয়ে বাড়ির মালিকরা সড়ক কেটে অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেয়ার সাহস পান, সেই নেতারা থেকে যান অধরা। এটি শুধু ঢাকা শহরের চিত্র নয়। দেশের প্রায় সবখানে, প্রতিটি খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছে সরকারি দলের স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষমতাসীনদের প্রতি জনআস্থা নষ্ট হচ্ছে। মানুষ ভোট দিয়ে যে দলকে ক্ষমতায় এনেছেন সেই তারা আবার মুখ ফিরিয়েও নিতে পারেন। তাই সবার আগে দরকার চাঁদাবাজ নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া। শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশে।

Advertisement