
নয়া দিগন্ত ২২ পূর্ণ করে ২৩-এ পদার্পণ করল আজ। নিখাদ বাংলাদেশপন্থী পত্রিকাটির ২২ বছর পূর্তির দিনটি সত্যি আমাদের জন্য এবং জাতীয় জীবনে এক আশা জাগানিয়া ঘটনা। আমাদের এবং জাতীয় জীবনে আশা জাগানিয়া এ জন্য যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে নয়া দিগন্ত ভিন্নমতের মুখপত্র হিসেবে জাতীয় দায়িত্ব পালন করেছে। এ জন্য চড়া মূল্য দিতে হয় পত্রিকাটিকে। সরকারি রোষানলে পড়ায় দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর তীব্র্র অর্থসঙ্কটে পড়তে হয় নয়া দিগন্তকে। এখনো যার জের রয়ে গেছে। এই সময়ে এসেও আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। তবে আশার কথা, নয়া দিগন্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনার যে অঙ্গীকার নিয়ে পথচলা শুরু করেছিল, বিপদসঙ্কুল পরিবেশেও তা জারি ছিল। মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে তা আরো বেগবান হয়েছে। এতে পাঠকপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্তুনিষ্ঠতার নীতিতে কায়েম থাকায় অতীতেও নয়া দিগন্ত পাঠকের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছে, এখনো পাচ্ছে। ভবিষ্যতেও পাবে— এ আশা খুব বেশি নয়।
ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে চব্বিশের ৫ আগস্ট জাতির ঘাড়ে চেপে বসা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলের অবসান ঘটেছে। ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে চলছে। অবাধ ও মুক্ত পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার এখন দেশ চালাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে নয়া দিগন্তের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালে জন্মলগ্ন থেকে নয়া দিগন্ত সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা জারি রেখেছে। বাকস্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকার চর্চার চেষ্টা করেছে দায়িত্বশীলতার সাথে। সব প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে ‘সত্যের সঙ্গে প্রতিদিন’ স্লোগান নিয়ে নয়া দিগন্ত পাঠকের কাছে অবিকৃত বার্তা পৌঁছে দেয়ার প্রচেষ্টায় নিরত থেকেছে, এখনো আছে।
নয়া দিগন্ত আজ স্বভাবত স্মরণ করছে জন্মকালীন মুহূর্তের কথা। বাংলাদেশের ৫৫ বছরের ইতিহাসের যাত্রার শুরুতে যেমন ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ ও তীব্র শঙ্কা, তেমনি ছিল সামনে এগিয়ে চলার দৃঢ়প্রত্যয়। কিন্তু কোনো সময়ই সামনে চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ নয়। কেননা পথের প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে থাকে খানাখন্দ, প্রতিবন্ধকতা আর বিপত্তি।
দুর্বল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় নাগরিক অধিকার যখন ঝুঁকিতে পড়ে, তখন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নয়া দিগন্ত সেই গুরুদায়িত্ব যথাসম্ভব পালনের চেষ্টা করছে। দেশ যখন ফ্যাসিবাদমুক্ত তখন রাষ্ট্র গড়ার কাজে নয়া দিগন্ত দায়িত্বশীল পত্রিকা হিসেবে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। নয়া দিগন্ত পাঠকের কথা মনে রেখে চেষ্টা করে ঘটনার প্রকৃত চিত্র জনসমক্ষে তুলে ধরতে। এ জন্য দরকার সাহস ও যোগ্যতা। দরকার পাঠকের সহানুভূতি। পাঠকের পৃষ্ঠপোষকতা আমাদের অদম্য সাহসের উৎস। ২২ বছরের নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নয়া দিগন্ত মূল লক্ষ্য, দর্শন-আদর্শ থেকে চুলপরিমাণ বিচ্যুত হয়নি। মহান আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে নয়া দিগন্ত সবসময়, সব পরিস্থিতিতে গণতন্ত্রের কথা বলছে, মানুষের অধিকারের কথা বলছে। অনাগত দিনেও এ আদর্শে অবিচল থাকবে ইনশা আল্লাহ।
পরিশেষে যারা বিজ্ঞাপন দিয়ে, পত্রিকা বিপণন করে দীর্ঘদিন আমাদের চলার পথের সাথী হয়েছেন, সহযোগিতা করেছেন, তাদের এবং সব পাঠক শুভানুধ্যায়ীকে আজকের এই শুভ দিনে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








