
জাতিসঙ্ঘের হিসাবে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি)। বাস্তবে দেশের জনসংখ্যার বড় একটি অংশ এখনো দরিদ্র। একটি অংশ আছে নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহই করতে পারে না। এ জন্য সরকার বিশাল ভর্তুকি দেয়। এর পরিমাণ জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বছরের পর বছর এভাবে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও দারিদ্র্য পরিস্থিতির উন্নয়ন না হওয়া হতাশাজনক। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গরিবদের লক্ষ্য করে সরকারের ব্যয়ের অংশের লাভবান হচ্ছেন ধনীরা। সরকারি নীতির বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও বিগত সরকারগুলো এ নিয়ে কার্যকর কিছু করেনি। ফলে দেশের অর্থনীতি একটি দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সরকারের ভর্তুকি জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারের পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয়। বিশ্বব্যাংক চলতি অক্টোবরে ভর্তুকি ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও সারে দেয়া ভর্তুকির সুবিধা বর্ধিত হারে চলে যাচ্ছে ধনী ও সচ্ছলদের কাছে। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ ভর্তুকির ৩৩ শতাংশ পায়। সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ পরিবার পায় ভর্তুকির ১৫ শতাংশ। ভর্তুকিতে নিচের দিকের ৪০ শতাংশ পরিবারের সম্মিলিত অংশ ৩০ শতাংশ। গরিব কিংবা নিম্নআয়ের মানুষকে ভর্তুকি দিতে গিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুতে ধনীরা বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।
সার ভর্তুকির ক্ষেত্রে সচ্ছল ও অধিক জমির মালিকেরা তুলনামূলক বেশি লাভবান হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় ২০ শতাংশ জমির মালিক মোট সার ভর্তুকির ৫০ শতাংশ পান। নিচের দিক (কৃষিজমির স্বল্পতা) থেকে ৪০ শতাংশ কৃষক পান মাত্র ১৩ শতাংশ। ভর্তুকিদানে সরকারের নীতিগত দুর্বলতার ব্যাপারটি বিশ্ববাংকের এ প্রতিবেদনে স্পষ্ট। একটি শ্রেণীর জন্য ভর্তুকি দিতে গিয়ে যাদের জন্য ভর্তুকি প্রয়োজন নেই, তাদের ঘরেও সাহায্য পৌঁছে দিচ্ছে। এতে করে অপেক্ষাকৃত স্বল্প আয়ের মানুষেরা কিছুটা লাভবান হলেও ব্যয় করতে হচ্ছে সরকারকে অনেক বেশি। যা জাতীয় অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। সুবিধাভোগী শ্রেণীকে চিহ্নিত করে এই ভর্তুকি দেয়া গেলে এই ব্যয় বহু অংশ কমানো যেত। একইভাবে সারের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, ঠিকভাবে প্রান্তিক কৃষক ও কম জমির মালিককে নির্বাচন করে ভর্তুকি পৌঁছানো গেলে এই খাতে ব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পেত। তা দিয়ে কৃষির উন্নয়ন ও গবেষণায় ব্যয় করা যেত।
সামাজিক সুরক্ষার নামে বিপুল ব্যয় করা হলেও তা-ও টার্গেট গ্রুপের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অর্থাৎ যাদের জন্য সুরক্ষা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে, তারা এর সুবিধাভোগী নন। লক্ষণীয়, সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের প্রায় অর্ধেক এসব কর্মসূচির সুবিধার আওতায় আসেনি।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, সরকার যদি ভর্তুকি পাওয়ার যোগ্যদের সঠিক বাছাই করতে পারত দারিদ্র্যবিমোচন হতে পারত অনেক কম খরচে। উদ্বৃত্ত অর্থ সরকার অনায়াসে অন্য খাতে ব্যয় করে দেশের উন্নয়ন ঘটাতে পারত। এ অদক্ষতা দূর করতে হলে ঢালাও ভর্তুকি নীতি পরিহার করে ব্যয়ের ক্ষেত্রে পিনপয়েন্ট হতে হবে। যার প্রয়োজন শুধু তাকেই সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








