সম্পাদকীয়
সম্পাদকীয়। নয়া দিগন্ত গ্রাফিক্স

যুব উন্নয়ন অধিদফতরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস শুধু হতাশাজনকই নয়, উদ্বেগেরও বিষয়। গত শনিবার এ ঘটনার মধ্য দিয়ে চাকরি প্রার্থীরা যে মানসিক  হয়রানি ও  আর্থিক ক্ষতির শিকার হলেন তার দায়ভার কে নেবে? 
উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৪২টি। আর এর বিপরীতে চাকরি পরীক্ষার্থী ছিলেন তিন লাখ ১৯ হাজার। বলার অপেক্ষা রাখে না, চাকরির বাজারে এটি ছিল তুমুল প্রতিযোগিতার পরীক্ষা। কিন্তু এভাবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার মাধ্যমে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ চাকরি প্রার্থীদের কি বার্তা দিলেন? অতীতে পতিত শেখ হাসিনা সরকার যেমন বিসিএসসহ নানা চাকরির পরীক্ষায় ইচ্ছেমতো স্বজনপ্রীতি আর প্রশ্নপত্র ফাঁস করে নিজেদের লোকদের চাকরি  দিত, এখনো কি তেমনটি চলবে? চাকরি প্রার্থীরা যেভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে তা উপলব্ধি করতে হবে। 
আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরীক্ষাগুলো স্বচ্ছতার জন্য বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নেয়া হতো। কিন্তু ২০২০ সালের পর এসব তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করা হয়। মন্ত্রণালয়গুলো নিজেরাই নিজেদের পরীক্ষা নিতে শুরু করে। শুরু হয় দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মহোৎসব। 
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের বেশি। কর্মসংস্থানের অভাবে বেকারদের মধ্যে প্রতিনিয়ত অনিশ্চিয়তা কাজ করে। নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতার বিপরীতে প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতি বেকারদের হতাশা আরো বাড়িয়ে দেয়। 
যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অতীতে বহুবার এমন চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হলেও কোনো বিচার নিশ্চিত করা যায়নি। তাই একই অপরাধ বার বার ঘটছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায়, এরা যে  শুধু চাকরি প্রার্র্থীদেরই বেকায়দায় ফেলবে তাই নয়; সরকারকেও বিপদে ফেলবে।  
মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক নানা অনিয়ম চলে আসছে। পিয়ন কিংবা ঝাড়ুদার থেকে শুরু করে এমন কোনো পদ নেই যেগুলোতে নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই। এখন এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার সময় এসেছে। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা চাইলেই যেকোনো সময় যে কাউকে নিয়োগ দেবেন— এই ব্যবস্থারও অবসান হওয়া দরকার। 
বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন-বিপিএসসির নিয়োগের বাইরে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য পিএসসির আদলে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান পিএসসির মতো কাজ করে নানা পদের নিয়োগ সম্পন্ন করবে। এতে করে সরকারি চাকরি প্রার্থীদের যেমন একটি বিশ্বাসের জায়গা তৈরি হবে, তেমনি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ অন্যদের ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি অনেকটা কমে আসবে।  
দেশের তরুণ ও যুুবকরা অনেক স্বপ্ন নিয়ে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। সেই স্বপ্ন ছিল ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়া। রাষ্ট্রের রন্ধ্র্রে রন্ধ্রে দুঃশাসন ও দুর্নীতি নির্মূল করা। তরুণ ও যুবকদের চাকরির ক্ষেত্রে অতীতের স্বৈরাচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল থাকলে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা কেবল বাড়বে, যা কারো জন্যই কাম্য নয়। 

Advertisement