
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন করে যোগ হতে যাচ্ছে ৩৫টি বিমান। এগুলোর মধ্যে ২৫টি মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের এবং ১০টি ইউরোপিয়ান এয়ারবাসের। দেশের ইতিহাসে নজির তৈরি করা এই সিদ্ধান্তে এভিয়েশন খাতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আলোচনা হচ্ছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়েও। এ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সহযোগী একটি দৈনিক। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করে আগামী ৩ থেকে ১০ বছরে বহরে এসব বিমান যুক্ত হতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ পরিচালনাগত সক্ষমতা ও কারিগরি দক্ষতা কতটা আছে সে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্লেষকদের বড় অংশ বিমান কেনার নেপথ্যে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের কৌশল দেখছেন। বাস্তবিক অর্থে, বর্তমান সরকারের বিদেশনীতি প্রশংসনীয়। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একক কোনো শক্তির দিকে না ঝুঁকে কৌশলগত ভারসাম্য রেখে চলাই যুক্তিযুক্ত। সে হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুষম বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতেই বোয়িং ও এয়ারবাস কেনা হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতে ইউরোপের সাথে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে।
সরকার বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর সাথে কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছে এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এতগুলো বিমান দিয়ে বাংলাদেশ কী করবে? কিভাবে পরিচালনা করবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত দাবি করেছেন, চাহিদার ভিত্তিতে যথাযথ প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেই বিমান কেনা হচ্ছে। এরপরও উত্থাপিত প্রশ্নগুলো উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। সরকারের এই পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদি, মূল্য পরিশোধের বিশাল চাপ বর্তমান বাজেটের ওপর সরাসরি পড়ছে না। ডেলিভারিও হবে দীর্ঘ সময় নিয়ে। সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এটি তাৎক্ষণিক ঝুঁকি তৈরি করবে না। তবে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
বোয়িংয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্য যেকোনো বিমান সংস্থার চেয়ে বাংলাদেশ বিমান পরিচালিত বোয়িং বিমানে কারিগরি ত্রুটি বেশি দেখা যায়। তাছাড়া এতবড় বহর পরিচালনার সক্ষমতা বিমানের আছে কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন। বর্তমানে মাত্র ১৯টি বিমান চালাতেই পাইলট ও ক্রুর সঙ্কট দেখা যাচ্ছে। নতুন ৩৫ বিমান যোগ হলে ৭০০ থেকে ৮৫০ জন দক্ষ পাইলট এবং হাজারের বেশি কেবিন ক্রু প্রয়োজন হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রীদের ৮০ শতাংশই বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোর দখলে। সে কারণে আমাদের বহর বড় করা প্রয়োজন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, বহর বড় করলেই সব লক্ষ্য অর্জন হয়ে যায় না। সেই বহরকে অবশ্যই বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে হবে।
আমরা মনে করি, বহর যোগ হওয়ার আগেই নতুন পাইলট, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী ও দক্ষ ক্রু তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সিলেট ও কক্সবাজারের মতো বন্দরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের হ্যাঙ্গার সুবিধা বাড়াতে হবে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আমলাতান্ত্রিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আন্তর্জাতিক পেশাদারিত্ব, প্রযুক্তিগত ঔৎকর্ষ ও বাণিজ্যিক দক্ষতার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








