
রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডা. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার মো: নাজমুল হোসাইনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে এ ঘটনার মধ্যদিয়ে স্বাস্থ্য খাতে আরেকটি অপসংস্কৃতির নজির সৃষ্টি হলো।
গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে— ভিসি ও সেকশন অফিসারকে চাকরি থেকে পদত্যাগে বাধ্য করার কাজে নেতৃত্ব দেন রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শরফুজ্জামান শামীম। তার সাথে অন্যদের মধ্যে ছিলেন রাজপাড়া থানা বিএনপির সহসভাপতি আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশীদ।
এর আগে আমরা দেখেছি, ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোক্তাদিরের একটি স্টুডিও ভেঙে ফেলা হয়েছে। এসব ঘটনায়ও ক্ষমতাসীন দলের নানা পর্যায়ের নেতাকর্র্মীর সম্পৃক্ততার কথা গণামাধ্যমে এসেছে। রাড্ডার ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপিকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। সেই সাথে কিছু সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নিয়েছে বিএনপি। তারপরও এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি থামছে না।
বাধ্যতামূলক পদত্যাগের বিষয়ে ভিসি ডা. জাওয়াদুল হক বলেছেন, বিভিন্ন সময় তারা আমার কাছে ঠিকাদারি কাজ চাইত। তাদের দাবি, আমি যেন জোর করে তাদের কাজ পাইয়ে দিই। তারা অভিযোগ করে, তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারকে দিয়েছি। আমাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলে লাঞ্ছিত করে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের লেখা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেয়।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও বর্তমান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, নির্বাচন হলে সব সঙ্কট কেটে যাবে। নির্বাচন হয়েছে, ক্ষমাতায়ও এসেছে বিএনপি; কিন্তু সব সঙ্কট কেটে যায়নি; বরং আগের ঘটনা এখনো ঘটছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোরপূর্বক কিছু পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে; কিন্তু তখন সেগুলোর প্রেক্ষাপটও ছিল। যেমন— অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে ছাত্র-জনতাকে নিপীড়ন করেছে। কেউ আবার আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে মানুষের ওপর বছরের পর বছর জুলুম নির্যাতন করেছে। এমন সব বিষয়কে কেন্দ্র করে তখন এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর নিয়োগকৃত। এতদিন পর এসে এমন একজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো স্পষ্টত মব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা এখনই থামাতে হবে।
বিএনপি এ সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। দেশের মানুষকে ব্যাপক স্বপ্ন আর আশা-আকাক্সক্ষা দেখিয়ে তারা রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। তাদের কাছে থেকে মানুষ এ ধরনের একটি ঘটনাও আর দেখতে চায় না, সে বিষয়ে বিএনপিকে তার নেতাকর্মীদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে।
একের পর এক এমন ঘটনা ঘটানোর কারণে অনেকে বলার চেষ্টা করছে— বিএনপি সরকার অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের মতো। ব্যর্থ সরকার বলার সুযোগও নিচ্ছে অনেকে। এমতাবস্থায় দলটির জন্য সতর্কতা জরুরি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি দেখার প্রত্যাশা করেছিল। রাজনৈতিক দলগুলোকে সেই সংস্কৃতি উপহার দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি দলের ভূমিকাই বেশি। নানা ক্ষেত্রে তাদেরকেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








