মতামত
সম্পাদকীয় লোগো। নয়া দিগন্ত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের হাতবদল হওয়ার বিষয়টি সবার জানা। প্রকাশ্যে-গোপনে একই নিষ্পেষণ জনগণের ওপর সারা দেশে কমবেশি অব্যাহত আছে। সম্প্রতি রাজধানীতে দখলদারদের উন্মাদনা দেখা গেল। টিকাদান কেন্দ্র, আবাসিক এলাকা এবং ঘরবাড়িতে বেপরোয়া ভাঙচুর চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সাধারণ মানুষ হতাশ হয়েছেন। ফ্যাসিবাদী নৈরাজ্য আবার ফিরে আসছে কিনা তা নিয়ে ঢাকাবাসী উদ্বিগ্ন। দখল ভাঙচুরের পেছনে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা জড়িত থাকার বিষয় প্রকাশ্যে এলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন অপরাধে যুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। 
মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। এতে হামলাকারীরা ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী। তাদের নাম পরিচয় প্রকাশ্যে এলেও প্রশাসনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। দায়িত্বে অবহেলা বলে পুলিশের ওপর দোষ চাপিয়ে সরকার এই অপরাধকে হালকা করে উপস্থাপন করতে চাইছে। ওই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পর রাজধানীর আরো তিনটি  স্থানে প্রকাশ্যে হামলা ভাঙচুর দখলের একই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখা গেল। এগুলোতেও সরকার ত্বরিত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। একদল লোক রাজধানীতে দখলবাজিতে মেতে উঠেছে। মনে হচ্ছে, এখন যেন দখলের মৌসুম চলছে। এ সুযোগ পরে আর থাকবে না। রাজধানীসহ সারা দেশে দখলদার, চাঁদাবাজদের কাছে এ বার্তা যাচ্ছে যে, তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড বাধা দেয়ার কেউ নেই। এতে নাগরিকদের জানমাল নতুন করে নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমের খবর— রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ আওয়ামী লীগের কাছে থেকে এখন বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। তারা এক হাজার ৫৩০ জনের একটি তালিকা তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে ২৭৮ জন পৃষ্ঠপোষক আছে। এদের ২৩০ জনই বিএনপির বর্তমান ও সাবেক নেতা। বাকি এক হাজার ২৫২ জনের মধ্যে ৩৫০ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাথে যুক্ত। দলের বাইরে যারা আছেন তারাও দলীয় লোকদের অধীনে থেকে অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত আছে। এই তালিকায় কিছু পুলিশের নামও আছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানা যাচ্ছে, তারা দেড় বছরে যাচাই-বাছাই করে এ তালিকা তৈরি করেছে। রাজধানীর ছিনতাই ফুটপাথ দখল ও ভাড়া দেয়াসহ অপরাধ জগৎ পুরোপুরি তারা নিয়ন্ত্রণ করে। প্রশ্ন হচ্ছে— আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধীদের তালিকা থাকলেও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না?
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে অপরাধ কার্যক্রম এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। গুরুতর ঘটনা ঘটলেও তা হালকা করে দেখানো হচ্ছে। এতে করে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, জনমনে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। সরকারের ওপর মানুষের আস্থা কমছে। দলীয় কিছু সদস্যের অপরাধ এভাবে আশকারা দেয়া হলে একসময় তারা দানবীয় হয়ে উঠতে পারেন। তখন চাইলে সরকারও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার শক্তি পাবে না। এমনটি হলে সেটি শুধু ক্ষমতাসীন দল নয়, দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনবে। সময় থাকতে সরকারকে এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।