
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বুজরুকগড়গড়িতে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটি এখন নাজুক অবস্থায়। এ নিয়ে স্থানীয়দের মনে চরম ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে। বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের অবকাঠামো ও আধুনিক যন্ত্রপাতি পড়ে থাকলেও বর্জ্য শোধন কিংবা সার উৎপাদনের মূল কাজ শুরু হয়নি। উল্টো সেখানে প্রতিদিন জমছে টন টন অপচনশীল পলিথিন ও পচনশীল বর্জ্য।
পরিচ্ছন্ন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ দূষণ রোধ এবং জৈবসার উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে ‘নগর পরিচালন ও অবকাঠামো উন্নতিকরণ সেক্টর প্রকল্প’র আওতায় তিন একর জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। নির্মাণের তিন বছর পার হয়ে গেলেও চালু করা যায়নি। অবকাঠামো ও দামি যন্ত্রপাতি এখন ঝোপঝাড় আর আগাছায় নষ্ট হতে বসেছে। পরিবেশ সহায়ক না হয়ে শোধনাগারটি স্থানীয়দের জন্য এখন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পটি ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হওয়া রীতিমতো হতাশা ও উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রীয় সম্পদের এমন অপচয় এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের সীমাহীন উদাসীনতা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
নয়া দিগন্তের খবর বলছে, প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী— ডাম্পিং স্টেশনের পাম্পহাউজ, ফিল্টার, পলিশিং ও সেটেলমেন্ট ট্যাংক তৈরি করা হয়েছিল। সময়মতো এটি সচল না হওয়ায় প্রবেশপথ ও চারপাশ ঘন ঝোপঝাড় এবং আগাছায় ঢেকে গেছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভেতরের মূল যন্ত্রপাতিগুলো এখন নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এ ছাড়া শোধনাগারটির তদারকিতে নির্মিত অফিস কক্ষটি দিনের বেশির ভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকে। এ দিকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ভ্যান ও ট্রাকে করে প্রতি ১০-১৫ মিনিট পরপর ময়লা এনে ডাম্পিং স্টেশনে ফেলছেন। ফলে প্রতিদিন এখানে জমছে ১০-১২ টন বর্জ্য। মাসের পর মাস বর্জ্য জমায় এলাকাটি এখন এক বিশাল আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শোধন বন্ধ থাকায় ময়লার স্তূপ থেকে প্রতিনিয়ত ছড়াচ্ছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। পলিথিন উড়ে গিয়ে পাশের কৃষি জমির দূষণ করছে। দুর্গন্ধে কৃষকরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। এতে হুমকিতে পড়েছে আশপাশের জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।
প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন বছরেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেউ বলতে পারছেন না কখন এটি সচল হবে। প্রশ্ন উঠেছে— পরিকল্পনা ও উপযুক্ত জনবল প্রস্তুত না করে কিভাবে কোটি কোটি টাকার সরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলা হলো?
রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ করে নির্মিত কোনো প্রকল্প যখন জনগণের কাজে লাগানো যায় না, তখন এর চেয়ে হতাশার আর কিছু থাকে না। যাদের দায়িত্ব অবহেলায় রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় ও পরিবেশ বিপর্যয় হচ্ছে তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। শিগগির তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। শুধু জবাবদিহি নয়— যাদের গাফিলতিতে শোধনাগারটির নাজুক অবস্থা; তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই সাথে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে দ্রুততম সময়ে এটি চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।








