পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রোহিঙ্গা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী
অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন। ইন্টারনেট

আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার পক্ষে নিজেদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলো। 

Advertisement

আইনি এই পদক্ষেপ দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সঙ্কটের একটি স্থায়ী সমাধানের পথ উন্মোচন করতে সাহায্য করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইরাকের বাগদাদে আয়োজিত ওআইসির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পরিষদের (সিএফএম) ৫২তম সম্মেলনের ফাঁকে অনুষ্ঠিত ‘রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা বিষয়ক ওআইসি মন্ত্রীপর্যায়ের অ্যাড-হক কমিটি’র বৈঠকে এই সংহতি ও প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

বৈঠকে সহ-সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানের লক্ষ্যে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হুমায়ুন কবির। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মানবিক এই সঙ্কটের একটি টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

রোহিঙ্গা সঙ্কটকে মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ওআইসি সদস্য দেশগুলোকে মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং চলমান আইনি লড়াই সমর্থনের জন্য সমন্বিত ও সম্মিলিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ব দরবারে বা বৈশ্বিক অগ্রাধিকারে যেন রোহিঙ্গাদের দুঃখ-দুর্দশার বিষয়টি প্রাধান্য পায়, সে জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

একই সাথে তিনি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থাপিত পাঁচ দফা কার্যপরিকল্পনার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

কার্যপরিকল্পনার বিষয়টি উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির জরুরি ও নির্ণায়ক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের- বিশেষ করে বিদ্যমান আইনি কাঠামোর আওতায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গাদের সাথে তাদের এই সংহতিকে সুনির্দিষ্ট উদ্যোগে রূপান্তর করার আহ্বান জানান, যাতে সঙ্কটের টেকসই সমাধান ত্বরান্বিত করা যায়।

বৈঠকে ওআইসি সদস্য দেশগুলো আইসিজে-তে চলমান মামলার প্রতি তাদের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে এবং বিচারিক এই প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে।

রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং স্থায়ী সমাধানের সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার গুরুত্বও সভায় তুলে ধরা হয়।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার থেকে নির্মম নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ১৪ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ এবং একই সাথে এই সঙ্কটের টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

সূত্র : বাসস