প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতিসঙ্ঘ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন। ভিডিও থেকে নেয়া

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘের যেকোনো উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘একে অপরের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি সমঝোতামূলক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে জাতিসঙ্ঘকে দেখতে চায় বাংলাদেশ।’

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আজ দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘বিবদমান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমতা, ন্যায্যতা, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষা এবং সম্মান ও মর্যাদা রক্ষাই দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিময় ও মানবিক বিশ্ব সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করে, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি-তর্ক, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা হবে পরিবর্তনের হাতিয়ার।’

জাতিসঙ্ঘ সদর দফতরে দেয়া ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একইসাথে তিনি বিদায়ী সভাপতি ম্যাডাম এনালেনা বেয়ারবককে ধন্যবাদ জানান।

বিশ্বের চলমান সংঘাত ও এর অর্থনৈতিক প্রভাব প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বায়নের এই সময়ে বিশ্বের যে প্রান্তেই কোনো ঘটনা ঘটুক না কেন, প্রতিটি রাষ্ট্রেই তার কমবেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে অনেক দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বিশ্ব অর্থনীতি তীব্র চাপের মুখে পড়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা সঙ্কট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন খাতের বাজেট সামরিক খাতে সরিয়ে নেয়ার প্রবণতা বিশ্বশান্তির অন্তরায়। শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।’

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি  পুনরায় বাংলাদেশের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেন। 

সূত্র : বাসস