
কিছু ইনিংস শুধু রানসংখ্যায় মাপা যায় না, হয়ে ওঠে ইতিহাসের অংশ। সিলেট টেস্টে তেমনই এক ইনিংস খেললেন তাওহীদ হৃদয়। তার রেকর্ড গড়া ৩৫৯ বলে ২৪২ রানের ইনিংসে ভর করেই সিলেট টেস্টে ম্যাচে ফিরেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ।
অথচ আগের দিন ৩ উইকেটে ৮৮ রান নিয়ে শেষ করেছিল বাংলাদেশ। নতুন দিনেও বদলায়নি চিত্র। আর ১০৪ রান যোগ করতেই হারিয়ে ফেলে আরো ৩ উইকেট। তবে এরপর বদলে যায় দৃশ্যপট। তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে ভর করে সিলেট টেস্টে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ।
আরো পড়ুন—ডাবল সেঞ্চুরির পর হৃদয় : জেদ চেপেছিল, তবে বিশ্বাস ছিল আল্লাহর প্রতি
ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে ২৪২ রানে অপরাজিত থেকেছেন এই ব্যাটসম্যান। তার বীরোচিত ইনিংসে ৩০ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। যদিও দিনের শেষভাগে ব্যাট করতে নেমে লিড কিছুটা কমিয়েছে ক্যারিবীয়রা।
শনিবার দিনের শুরুতে হৃদয়ের সাথে মাঠে আসেন মুশফিকুর রহিম। নতুন দিনে এই জুটি ঘিরেই ছিল প্রত্যাশা। তবে জুটি বড় হয়নি ৩৪ রান করে বিদায় নেন মুশফিক। এরপর বেশিক্ষণ টেকেননি লিটন দাসও (৮)। ইনিংস বড় হয়নি মেহেদী মিরাজেরও (১৬)।
এরপর হাসান মাহমুদের বিদায়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১৮৪ রান। চোটের কারণে সাদমান ইসলাম আগেই ব্যাটিংয়ের বাইরে থাকায় কার্যত তখন শেষ স্বীকৃত ব্যাটসম্যান কেবল একাই তাওহীদ হৃদয়।
সেখান থেকেই শুরু হয় তার অবিস্মরণীয় লড়াই। আগের দিন ৮০ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকা হৃদয় নতুন দিনে শুরু থেকেই রান তোলায় মনোযোগী ছিলেন। ৮১ রানে থাকা অবস্থায় রস্টন চেইসের বলে ছক্কা ও চার মেরে আক্রমণের ইঙ্গিত দেন। আগের দিন ১০৯ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করা হৃদয় পরের ৬২ বলেই পৌঁছে যান সেঞ্চুরিতে।
এরপর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে গড়ে তোলেন প্রতিরোধের দেয়াল। প্রায় ২৮ ওভার স্থায়ী অষ্টম উইকেটের জুটিতে আসে ১১৭ রান। তাইজুলের অবদান ২২, হৃদয়ের ৯২। তাইজুল স্টাম্পড হয়ে ফিরলে হৃদয়ের রান ছিল ১৭৩।
চা বিরতির ঠিক আগের দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে পৌঁছান ১৯০ রানে। বিরতির পর তাসকিন আহমেদকে সাথে করে পূর্ণ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। ৩০৪ বলে দুই শ’ ছোঁয়ার পরও থামেননি তিনি। নবম উইকেটে তাসকিনের সাথে যোগ করেন আরো ৮৫ রান।
সিলেটের মাঠে অষ্টম ও নবম উইকেটে বাংলাদেশের এই দুই জুটিই গড়েছে নতুন রেকর্ড। শেষ দুই উইকেটে এসেছে ২০২ রান, যার ১৬১ রানই হৃদয়ের। তাসকিন ১২ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৩৮৬ রানে।
এই ইনিংসে একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন হৃদয়। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস এখন তার। মুশফিকুর রহিমকে পেছনে ফেলে গড়েছেন নতুন রেকর্ড। প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেয়া বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যানও তিনি।
মাত্র তিন টেস্ট খেলেই ডাবল সেঞ্চুরি পেয়েছেন। এক ইনিংসে ১১ ছক্কা মেরে ভেঙেছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মাঝে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড, পেছনে ফেলেছেন তামিম ইকবালের ৭ ছক্কা।
হৃদয়ের এই দিনটি অবশ্য আরো বিশেষ। আগের টেস্টে মুশফিকুর রহিমের চোটে শেষ মুহূর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। এবার মুমিনুল হক অসুস্থ থাকায় একাদশে জায়গা পান। সুযোগ পেয়ে ব্যাট হাতেই সব সমালোচনার জবাব দিলেন।
বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হওয়ার পর দিনের বাকি সময় ব্যাটিং করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারেই দুটি জোরালো আবেদনে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, তবে দুবারই সিদ্ধান্ত যায় ব্যাটসম্যানদের পক্ষে।
শেষ পর্যন্ত কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান তুলে দিন শেষ করেছে ক্যারিবীয়রা। তাতে দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে ২৩ রানে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








