
শুরুটা ছিল বাংলাদেশের পেসারদের দাপটে। মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে দিনটা নিজেদের করে নিয়েছে ক্যারিবীয়রা। আমির জাঙ্গুর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে দিন শেষে শক্ত অবস্থানে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিন আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই খেলা শেষ হয়। দিন শেষে ৭০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ২৩৫ রান।
এদিন টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রস্টন চেজ। তবে শুরুতেই সেই সিদ্ধান্তকে কঠিন করে তোলেন বাংলাদেশের দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।
পঞ্চম ওভারে ব্র্যান্ডন কিংকে (৯) বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন। পরের ওভারেই কাভেম হজকে (১) ফিরিয়ে দেন হাসান। এরপর ইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জশুয়া দা সিলভাকে (১২) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন তাসকিন।
তাতে মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত কেভিন উইকহ্যাম। চতুর্থ উইকেটে দু’জনের ১৩১ রানের জুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে।
বাংলাদেশের পেস ও স্পিন আক্রমণ সামলে দারুণ ধৈর্যের পরিচয় দেন দু’জন। অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ফিফটি তুলে নেন উইকহ্যাম। ১৪৫ বলে ৬১ রান করে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হলে ভাঙে এই জুটি।
উইকহ্যাম ফিরলেও জাঙ্গুর ব্যাট থামেনি। দৃষ্টিনন্দন শটের পাশাপাশি সিঙ্গেলস নিয়ে স্কোরবোর্ড সচল রেখেছেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। পঞ্চম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে অবিচ্ছিন্ন ৭৭ রানের জুটি গড়েন জাঙ্গু।
১৪৯ বলে ১০ চার ও ২ ছক্কায় জাঙ্গু তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। দিন শেষে ১১১ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন তিনি। অন্যদিকে গ্রিভস অপরাজিত আছেন ৩৫ রানে।
শেষ দিকে আলোকস্বল্পতার কারণে আম্পায়াররা খেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিলে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় দিনের খেলা। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ দু’টি করে উইকেট নিয়েছেন। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ উইকেটশূন্য ছিলেন।
উল্লেখ্য, মিরপুরে প্রথম টেস্টে ৮ উইকেটে হেরে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে সিলেটে খেলতে নেমে প্রথম দিনটা শেষ পর্যন্ত নিজেদের করে নিতে পারেনি স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফেরাই এখন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








