
১৭০ রানের লক্ষ্য। মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে এই পুঁজিও যে যথেষ্ট হতে পারে, সেই বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটারদের সামনে সেই বিশ্বাসের প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি বোলাররা।
মাত্র ৩৫.১ ওভারেই ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা। তাই ৮ উইকেটের হারের পর ব্যাটারদের ব্যর্থতার পাশাপাশি বোলারদের পারফরম্যান্স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৪৩ রানে। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রানের।
উইকেটের আচরণ বিবেচনায় এই রান নিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার আশা ছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই করতে পারেনি বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেন শান্ত।
তিনি বলেন, ‘১৭০ হওয়ার পর আমাদের বিশ্বাস ছিল, এই রান ডিফেন্ড করা সম্ভব। উইকেটের যে অবস্থা ছিল, তাতে সেটা সম্ভব মনে হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে হয়নি। অবশ্যই ওদের কৃতিত্ব দিতে হবে। তবে আমি বলব, এই উইকেটে আমরা আরেকটু ভালো বোলিং করতে পারতাম। আমরা খুব বেশি ভালো বল করিনি।’
চতুর্থ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের বোলারদের লাইন ও লেন্থ ঠিক ছিল না বলে মনে করেন শান্ত। বিশেষ করে স্পিনাররা প্রত্যাশা অনুযায়ী বল করতে পারেননি। প্রতিপক্ষকে এত সহজে রান তোলার সুযোগ দেয়ার কথা ছিল না বলেও মনে করেন তিনি।
শান্তর ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয়, লেন্থটা আমরা খুব ভালোভাবে ধরতে পারিনি। একটু এলোমেলো ছিল। বিশেষ করে চতুর্থ ইনিংসে ওদের ব্যাটিং দেখেন, আমরা মাত্র দু’টি উইকেট নিয়েছি। এই জায়গায় ম্যাচ হারলেও অন্তত সাত-আটটি উইকেট নিতে পারলে হয়তো বুঝতাম, আমরা রানটা অনেক কম করেছি। কিন্তু এই জায়গাটায় আমার মনে হচ্ছে একটু এলোমেলো ছিল।’
ম্যাচে অন্তত পাঁচটি রিভিউয়ের সিদ্ধান্ত আম্পায়ার্স কল হয়েছে, যার সবগুলোই গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। এসব সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও হারের কারণ হিসেবে সেগুলোকে সামনে আনতে চান না অধিনায়ক। তার মতে, ১৭০ রানের মতো লক্ষ্য ডিফেন্ড করতে হলে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষেও আসা প্রয়োজন ছিল।
এ প্রসঙ্গে শান্ত বলেন, ‘আপনি যখন ১৭০ রানের লক্ষ্য দেবেন, তখন পাঁচটি আম্পায়ার্স কলের মধ্যে তিনটি আপনার পক্ষে দরকার হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজ সেটা হয়নি। এটা ক্রিকেটের অংশ।’
‘আম্পায়ারকে দোষও দিতে পারবেন না। ধরে নিতে হবে, আমাদের ভাগ্যে ছিল না। তবে শুরুতেই যে আউটটা আমরা পাইনি, সেটা পেলে হয়তো অন্য রকম মোমেন্টাম পেতাম। কিন্তু এটাকে অজুহাত দিতে চাই না।’
তবে একের পর এক সিদ্ধান্ত নিজেদের বিপক্ষে গেলে দলের ওপর তার প্রভাব পড়ে, সেটিও স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এমন পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের হতাশ হওয়াটা স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘মিথ্যা বলব না। যখন অনেক বেশি হয়, তখন একটু ডিমোটিভেটেড লাগে। চার-পাঁচটি এমন হলে স্বাভাবিকভাবেই একটু হতাশা আসে।’
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








