আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে, টি-টোয়ান্টি, আজমাতউল্লাহ ওমারজাই, রশিদ খান, সিকান্দার রাজা, সেঞ্চুরি
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের উদযাপন। সংগৃহীত

শুরুটা ছিল ভয়াবহ। ৫ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল আফগানিস্তান। সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের চিত্রই বদলে দিলেন আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। ১২ ছক্কায় খেললেন ৫০ বলে ১১৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। 

Advertisement

তার ব্যাটে ভর করে ২২১ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় আফগানিস্তান। জবাবে সিকান্দার রাজার সেঞ্চুরিতেও জয়ের দেখা পায়নি জিম্বাবুয়ে। তবে ৪০ বছর বয়সে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।

বৃহস্পতিবার শারজায় সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়েকে ১৯ রানে হারায় আফগানিস্তান। রানবন্যার এই ম্যাচে ব্যাট হাতে একাধিক রেকর্ড গড়েছেন দুই দলের দুই তারকা। পাশাপাশি নয়া ইতিহাস গড়েছেন রশিদ খান।

টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়ে ইতিহাসের প্রথম বোলার হয়েছেন রাশিদ খান।

এদিন টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে আফগানিস্তান। ৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ৮.১ ওভারে মাত্র ৩৮ রানে পঞ্চম উইকেটও হারায় তারা। এমন পরিস্থিতিতে ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিজে আসেন ওমারজাই। 

এরপর ইজাজ আহমাদ আহমাদজাইকে সাথে নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন তিনি। মাত্র ৪৪ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই অলরাউন্ডার। শেষ পর্যন্ত ১২ ছক্কা ও পাঁচ চারে ৫০ বলে ১১৬ রান করে অপরাজিত থাকেন।

এই ইনিংসে অনন্য রেকর্ড গড়েছেন ওমারজাই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর খেলোয়াড়দের মাঝে ছয় বা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়া প্রথম সেঞ্চুরি এটি। এছাড়া ওমারজাইয়ের সাথে ইজাজের জুটিতেও এসেছে বিশ্বরেকর্ড।

ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৫৯ বলে ১৪২ রান যোগ করেন তারা। টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ উইকেট বা তার নিচে এটিই সর্বোচ্চ রানের জুটি। ২০২৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আন্দ্রে রাসেল ও শেরফেন রাদারফোর্ডের ১৩৯ রানের জুটি ছিল আগের রেকর্ড।

এদিকে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ফিফটি পাওয়া ইজাজ ২৭ বলে করেন ৫২ রান। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। শেষ দিকে ঝড় তুলেন রাশিদ খান, মাত্র ছয় বলে চার ছক্কায় ২৫ রান করেন তিনি।

পরে অবশ্য বল হাতে গড়েন ইতিহাস, ২৯ রানে ১ উইকেট নিয়ে পৌঁছে যান আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০০ উইকেটের মাইলফলকে। এই সংস্করণে প্রথম বোলার হিসেবে কীর্তিটি গড়লেন আফগান লেগ স্পিনার।

অন্যদিকে ২২২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে জিম্বাবুয়ের হয়ে একাই লড়াই করেন রাজা। তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ ছক্কা ও পাঁচ চারে ৫৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করেন অধিনায়ক। যা তার এই ফরম্যাটে জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় শতক।

এই সেঞ্চুরিতে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান রাজা। ৪০ বছর ১৮৮ দিন বয়সে সেঞ্চুরি করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি বয়সে শতকের রেকর্ড গড়েছেন তিনি। আগে রেকর্ডটি ছিল জিব্রাল্টারের আভিনাশ পাইয়ের দখলে (৩৯ বছর ২৭২ দিন)।

সিকান্দার রাজার সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ২০২ রান পর্যন্ত যেতে পারে জিম্বাবুয়ে। এছাড়া ১১ নম্বরে নেমে তাফাদা সিগা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ বলে ৩১ রান করেন। ইনোসেন্ট কাইয়া ২৫ ও ব্রায়ান বেনেটের ব্যাটে আসে ২২ রান।