
দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল দারুণ। উদ্বোধনী জুটিতেই তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম যোগ করেন ১২৪ রান। তানজিদ ৮৩ আর সাদমান ৬৭ রান করে ফিরলেও বড় সংগ্রহের ভিত তখন বেশ ভালোভাবেই তৈরি হয়ে গেছে।
তবে শুরুটা আশাজাগানিয়া হলেও শেষটা ভালো হয়নি। ২ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান নিয়ে। হঠাৎ আফগানিস্তান যেভাবে ম্যাচে ফিরেছে, তাতে দিনের শেষ হাসিটা তাদেরই হওয়ার কথা।
শুক্রবার আবুধাবিতে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে প্রথম সেশনে ২৬ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশ। মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার আগে ১ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে স্কোরবোর্ডে। প্রথম সেশনেই মিলে বড় সংগ্রহের আভাস। যেখানে বড় অবদান ছিল তানদিজের।
শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর চড়াও ছিলেন তানজিদ তামিম। মাত্র ৪১ বলে তুলে নেন ফিফটি। এরপরও থামেনি তার ব্যাট। ছুটতে থাকেন শতকের পথে। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি না পেলেও খেলেছেন ৭১ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংস।
তানজিদের বিদায়ে ১২৪ রানে ভাঙে সাদমান ইসলামের সাথে তার ওপেনিং জুটি। আর বিরতি থেকে ফিরে আরো ৫০ রান যোগ করে আউট হন সাদমান। ১১১ বলে ৬৭ রান নিয়ে আউট হন তিনি।
তবে এর প্রভাব পড়তে দেননি নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক। দুজনের জুটি জমে উঠে বেশ, থিতু হয়ে যান মাঠে। তবে এ স্বস্তি দীর্ঘ হয়নি। দ্বিতীয় সেশনের শেষ দিকে এসে আর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি, হয় ছন্দ পতন।
২ উইকেটে ২২১ রান থেকে মাত্র ৪ রান যোগ করতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মুমিনুলের বিদায় দিয়ে যার শুরু। ৪৭.৪ ওভারে ফেরেন ৩৯ রান করা মুমিনুল। এরপর মাঠে এসেই ০ রানে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম।
বিপর্যয় সেখানেও শেষ হয়নি। কায়েস আহমেদের শিকার হয়ে ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও। দারুণ ব্যাট করতে থাকা শান্ত আউট হন ৪২ বলে ২৯ রান করে। ফলে ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারায় দল।
সেই চাপ কিছুটা সামাল দেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজন মিলে ৬২ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে আবারো লড়াইয়ে ফেরান। কিন্তু ২৮৭ রানে মিরাজ ২৪ রান করে ফিরতেই আবার বিপদে পড়ে দল। এরপর ফিফটি পূর্ণ করেই বিদায় নেন লিটন।
৫৩ রান করা এ ব্যাটার ফিরলে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৩০৩ রানে ৭ উইকেট। আর শেষ দিকে হাসান মাহমুদ ২ রানে ফিরলে ৩০৫ রানেই পতন হয় অষ্টম উইকেটের। এরপর আর কোনো উইকেট না হারালে দিন শেষ হয় ৩১৭/৮ রানে।
৮৪ ওভার শেষে নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত। বাংলাদেশের শুরুটা যেখানে বড় সংগ্রহের আশার জন্ম দিয়েছিল, দিনের শেষটা সেখানে এনে দিয়েছে কিছুটা শঙ্কা। সে সাথে বাড়িয়ে দিয়েছে বোলারদের দায়িত্ব।
আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সেলিম নিয়েছেন ৩ উইকেট। ইয়ামিন ও ইসমত আলম পেয়েছেন ২টি করে উইকেট।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








