শ্রীলঙ্কা ইংল্যান্ড
শ্রীলঙ্কাকে ১১৯ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড ছবি: সংগৃহীত

হ্যারি ব্রুকের বিধ্বংসী সেঞ্চুরির পর সনি বেকারের আগুনে বোলিং। দুজনের দাপটে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে পাত্তাই দেয়নি ইংল্যান্ড, হারিয়েছে ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে। যা লঙ্কানদের বিপক্ষে জয়ের ধারা আরো দীর্ঘ হলো ইংলিশদের।

সাউথ্যাম্পটনে মঙ্গলবার ৪ উইকেটে ২৫৪ রান করার পর শ্রীলঙ্কাকে মাত্র ১৯ ওভারে ১৩৫ রানে গুটিয়ে দেয় স্বাগতিকরা। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা। সেই সাথে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা ১৩তম টি-টোয়েন্টি জয় পেল ইংল্যান্ড।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ইংল্যান্ড। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া অ্যানাইরিন ডোনাল্ড প্রথম ওভারে ছক্কা ও চার মারেন। পরের ওভারে জস বাটলার হাঁকান টানা চারটি চার। ডোনাল্ড ১২ রানে ফিরলেও বাটলার ও ব্রুকের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেটে ৯০ রান তোলে ইংল্যান্ড।

দুনিথ ওয়েলালাগের এক ওভারে প্রথম পাঁচ বলে ৫ রান করা ব্রুক শেষ তিন বলে ২ ছক্কা ও ১ চার মেরে তুলে নেন ৩০ রান। অন্য প্রান্তে বাটলারও ছিলেন দুর্দান্ত। ২৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৮ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে করেন ৮০ রান। আউট হওয়ার আগে ব্রুকের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ৬০ বলে ১২৮ রানের জুটি গড়েন বাটলার।

বাটলার ফেরার পর ইনিংসের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে নেন ব্রুক। ১৭তম ওভারে দাসুন শানাকাকে পরপর ছক্কা ও চার মেরে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছান তিনি। পরের ওভারে ৯৯ থেকে দুই রান নিয়ে ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ইংলিশ অধিনায়ক।

শেষ পর্যন্ত ১০ চার ও ৬ ছক্কায় ৪৯ বলে অপরাজিত ১১৪ রান করেন ব্রুক। এটি তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং ৪২ বলে শতকটি ইংল্যান্ডের হয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০২১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪২ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোনও।

ইংল্যান্ডের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড এখনো ফিল সল্টের গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৯ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে বাটলারও গড়েছেন আলাদা কীর্তি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮০ রানের ইনিংস খেলে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রোহিত শর্মাকে ছাড়িয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় দুইয়ে উঠে এসেছেন তিনি। তার রান এখন ৪ হাজার ২৯২; ৪ হাজার ৫৯৬ রান নিয়ে সবার ওপরে আছেন বাবর আজম।

বাটলারের সাম্প্রতিক ফর্মেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২৬ সালে প্রথম ১৪টি টি-টোয়েন্টি ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল ২১২ রান। এরপর মাত্র দুই ইনিংসেই করেছেন ২১১ রান, ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ১৩১ এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এবার ৮০।

জবাবে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই পাথুম নিসাঙ্কা, কামিল মিশারা ও লাহিরু উদারাকে হারায় তারা। নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা সনি বেকার একই ওভারে মিশারা ও উদারাকে ফিরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লে শেষে তার বোলিং ফিগার ছিল ৩-১-৯-২।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে শ্রীলঙ্কা। ১২ ওভারে ৭ উইকেটে ৭৬ রানে পরিণত হয় তারা। দুনিথ ওয়েলালাগে ২১ বলে ৩৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। ইহসান মালিঙ্গা করেন ৫ বলে অপরাজিত ১৩। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি।

৪ ওভারে একটি মেডেনসহ মাত্র ১২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন বেকার। ডসন ও ওভারটন নেন ২টি করে। শেষ পর্যন্ত ১৯ ওভারে ১৩৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।

ব্রুকের অপরাজিত ১১৪ রানের ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান ইংলিশ অধিনায়ক। সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি হবে বৃহস্পতিবার কার্ডিফে।