
সৌদি আরবে ছুরিকাঘাতে নিহত বাংলাদেশী ব্যবসায়ী মো: খোরশেদ আলমের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে তার নিজ গ্রাম কুমিল্লার দেবিদ্বারের ভিরাল্লায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দফন হয়।
এর আগে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে তার লাশ দেশে এসে পৌঁছায়।
নিহত মো: খোরশেদ আলম কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের ভিরাল্লা উত্তরপাড়ার আনছার আলীর বাড়ির মরহুম নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একজন অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক ছিলেন।
চাকরিজীবন শেষে ২০১৭ সালে তিনি সৌদি আরবে যান এবং দেশটির আভা খামিজের মোসাইদ খালেদিয়া এলাকায় ফয়সাল আহমারী মসজিদের মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি সেখানে লন্ড্রি ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে জানান তার স্বজনরা।
নিহতের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার জানান, গত ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টার দিকে দোকানের বকেয়া টাকা আদায় ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বাসিন্দা ও দোকানের কর্মচারী আহাদ মিয়ার সাথে কয়েকজন সুদানি নাগরিকের কথা-কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে সুদানিরা আহাদের ওপর হামলা চালালে তাকে বাঁচাতে এগিয়ে যান খোরশেদ আলম। এ সময় সুদানি সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে খোরশেদ আলমকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পরপরই সৌদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল মতিন জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারিক কার্যক্রমে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। স্থানীয় আদালতে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও গ্রেফতার আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরো জানান, খোরশেদ আলম চার কন্যাসন্তানের জনক ছিলেন। এর মধ্যে দু’জন বিবাহিত ও অপর দু’জন অবিবাহিত। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম অভিভাবককে হারিয়ে তার স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানসহ পুরো পরিবার এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
_GDN_970x90px_Bangla.gif&w=2048&q=75)








